Pages

لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এ কালেমার অর্থ ও তার দাবী

  لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এ কালেমার অর্থ ও তার দাবী


 لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর অর্থ হচ্ছে, সত্য এবং হক মাবুদ বলতে যে ইলাহকে বুঝায় তিনি হলেন একমাত্র আল্লাহ, যাঁর কোনো শরীক নেই এবং তিনিই একমাত্র ইবাদত পাওয়ার অধিকারী তাই এ মহান কালেমার অর্থে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি ব্যতীত যত মাবুদ আছে সব অসত্য এবং বাতিলতাই তারা ইবাদত পাওয়ার অযোগ্য
এজন্য অধিকাংশ সময় আল্লাহ তাআলার ইবাদাতের আদেশের সাথে সাথে তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করতে নিষেধ করা সম্বলিত নির্দেশনা এসেছে। কেননা আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করা হলে সে ইবাদত গ্রহণযোগ্য হবে না আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿ ۞وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗاۖ﴾ [النساء: ٣٦] 
“আর তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করো না।” (আন্ নিসা-৩৬)
আল্লাহ আরো বলেন,
﴿فَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسۡتَمۡسَكَ بِٱلۡعُرۡوَةِ ٱلۡوُثۡقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَاۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ٢٥٦ ﴾ [البقرة: ٢٥٦] 
“অতঃপর যে তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে সে ব্যক্তি দৃঢ় অবলম্বন ধারণ করল যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।” (আল্ বাকারাহ-২৫৬)
তিনি আরো বলেন,
  ﴿ وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ ﴾ [النحل: ٣٦] 
“আর নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি এ বলে যেতোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে পরিহার কর।” (আন্ নাহাল-৩৬)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مَنْ دُونِ اللهِ، حَرُمَ مَالُهُ، وَدَمُهُ»
“যে ব্যক্তি বললআল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছুর ইবাদতকে অস্বীকার করল তার জীবন ও সম্পদ অন্যের জন্য নিষেধ করল।”[10]
 প্রত্যেক রাসূলই তাঁর জাতিকে বলেছেন,
﴿ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُۥٓ ﴾ [الاعراف: ٥٩] 
“তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই” (আল-আ‘রাফ৫৯) এতদ ব্যতীত এ সম্পর্কে আরো প্রমাণাদি রয়েছে
ইবনে রজব বলেন, কালেমার এই অর্থ বাস্তবায়িত হবে তখনযখন বান্দাহ لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর স্বীকৃতি দান করার পর এটা বিশ্বাস করবে যেআল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মাবুদ হওয়ার একমাত্র যোগ্য ঐ সত্তা যাকে ভয়-ভীতিবিনয়-ভালবাসাআশা-ভরসা সহকারে আনুগত্য করা হয়যার নিকট প্রার্থনা করা হয়যার সমীপে দো‘আ করা হয় এবং যার অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা হয়। আর এ সমস্ত কাজ একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য প্রযোজ্য নয়
এ জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মক্কার কাফেরদেরকে বললেনতোমরা বলোلاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ উত্তরে তারা বললো,
﴿ أَجَعَلَ ٱلۡأٓلِهَةَ إِلَٰهٗا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٌ عُجَابٞ ٥ ﴾ [ص: ٥] 
“সে কি সমস্ত ইলাহকে এক ইলাহতে পরিণত করেছে এ তো অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়।” (ছোয়াদ-৫)
এর অর্থ হলো তারা বুঝতে পারল যেএ কালেমার স্বীকৃতি মানেই এখন হতে মূর্তিপূজা বাতিল করা হলো এবং ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করা হলো আর তারা কখনও এমনটি কামনা করে না তাই এখানেই প্রমাণিত হলো যেلاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর অর্থ এবং এর দাবী হচ্ছে ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছুর ইবাদত পরিহার করা

এজন্য কোনো ব্যক্তি যখন বলে, لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ তখন সে এ ঘোষণাই প্রধান করে যেইবাদতের একমাত্র অধিকারী আল্লাহ তাআলাই এবং তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদাত যেমনকবরপূজা পীরপূজা ইত্যাদি সমস্ত কিছুই বাতিল। এর মাধ্যমে গোরপূজারী ও অন্যান্যরা যারা মনে করে যেلاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর অর্থ হচ্ছে এই বলে স্বীকৃতি দেয়া যে, আল্লাহ আছেনঅথবা তিনি সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি কোনো কিছু উদ্ভাবন করতে সক্ষমতাদের এই সমস্ত মতবাদ ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হলো।

আবার অনেকে মনে করে যে, কালেমা لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর অর্থ হলো কেবল “হাকেমিয়াহ বা হুকুমদাতা-বিধানদাতা অথবা সার্বভৌমত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর” এবং মনে করে যে, যে কেউ তার জীবনে এ বিশ্বাস করল, কেবলমাত্র এর দ্বারা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ এর ব্যাখ্যা করল, সে নিঃশর্ত তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করলএরপর যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পূজা -অর্চনা করা হয় বা মৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশ্বাস করা হয় যেতাদের নামে মান্নতকোরবানী ও ভেট প্রদান করার মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভ করা সম্ভব বা তাদের কবরের চার পার্শ্বে ঘুরে তাওয়াফ করাতে কিংবা তাদের কবরের মাটিকে বরকতময় মনে করাতে কোনো অসুবিধা নেই এবং এতে কিছু আসে যায় না। এ লোকেরা অনুধাবন করতে পারেনি যে এদের মত এ ধরনের আক্বীদা-বিশ্বাস তৎকালীন মক্কার কাফেরগণও পোষণ করত তারা বিশ্বাস করত যেআল্লাহই সৃষ্টিকর্তাএকমাত্র উদ্ভাবক এবং তারা অন্যান্য দেব- দেবীর ইবাদত শুধুমাত্র এজন্যই করত যেতারাই তাদেরকে আল্লাহ তাআলার খুব নিকটবর্তী করে দিবে। তারা মনে করত না যেঐ সব দেব-দেবী সৃষ্টি করতে কিংবা রিযিক দান করতে সক্ষম। অতএব ‘হাকেমিয়াহ বা বিধানদাতা বা সার্বভৌমত্ব আল্লাহর জন্য’ এবং এটাই ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’এর প্রকৃত অর্থ বা একমাত্র অর্থ এমনটি নয় বরং নিঃসেন্দেহে হাকেমিয়াহ বা বিধান প্রদান বা সার্বভৌমত্ব এগুলো আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট এবং তা এ কালেমার অর্থের একটি অংশ মাত্র কেননা কেউ যদি এক দিকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে যেমনআইন আদালত বা বিচার বিভাগ ইত্যাদিতে শরীয়তের হুকুম প্রতিষ্ঠা করে অন্য দিকে আল্লাহর ইবাদতে তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করে তা হলে এর কোনো মূল্যই হবে না। সুতরাং শুধু হাকেমিয়্যাহ বা সার্বভৌমত্ব আল্লাহর, এটা প্রতিষ্ঠাই কালেমা লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ এর প্রকৃত উদ্দিষ্ট অর্থ নয়।

যদি لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর অর্থ এটাই হতো যেমনটি ঐ সমস্ত লোক ধারণা করে তাহলে মক্কার মুশরিকদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লমের কোনো দ্বন্দ্বই থাকত না তিনি তাদেরকে যদি শুধুমাত্র এতটুকু আহবানই করতেন যেতোমরা এ মর্মে স্বীকৃতি প্রদান কর যে,আল্লাহ তা‘আলা উদ্ভাবন করতে সক্ষম অথবা আল্লাহ বলতে একজন কেউ আছেনঅথবা তোমরা ধন-সম্পদ এবং অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে শরীয়াত অনুযায়ী ফায়সালা কর এর সাথে সাথে তিনি যদি তাদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার কথা বলা থেকে বিরত থাকতেন তাহলে কালবিলম্ব না করে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহ্বানে সাড়া দিত। কিন্তু তারা আরবী ভাষী হওয়ার কারণে বুঝতে পেরেছিল যে, لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই হচ্ছে সমস্ত দেব-দেবীর ইবাদতকে বাতিল বলে ঘোষণা করা। তারা আরো বুঝেছিল যেএই কালেমা শুধুমাত্র এমন কতগুলো শব্দের সমারোহ নয় যেযার কোনো অর্থ নেই বরং এসব কিছু বুঝার কারণেই তারা এর স্বীকৃতি দান থেকে বিরত থাকল এবং বলল,
﴿ أَجَعَلَ ٱلۡأٓلِهَةَ إِلَٰهٗا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٌ عُجَابٞ ٥ ﴾ [ص: ٥] 
“সে কি সমস্ত ইলাহগুলোকে এক ইলাহতে পরিণত করলএ তো অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়।” [সূরা ছোয়াদ:৫]
যেমন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ আরো বলেন,
﴿ إِنَّهُمۡ كَانُوٓاْ إِذَا قِيلَ لَهُمۡ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسۡتَكۡبِرُونَ ٣٥ وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓاْ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٖ مَّجۡنُونِۢ ٣٦ ﴾ [الصافات: ٣٥،  ٣٦] 
“তাদেরকে যখন বলা হতো‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই’ তখন তারা উদ্ধত্য প্রদর্শন করত এবং বলতআমরা কি এক উন্মাদ কবির কথায় আমাদের সকল উপাস্যকে পরিত্যাগ করব? (আস-সাফফাত-৩৫-৩৬)
অতএব তারা বুঝল যেلاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর মানেই হচ্ছে সমস্ত কিছুর ইবাদত ছেড়ে দিয়ে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত করা। তারা যদি এক দিকে কালেমা ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ বলত অন্যদিকে দেব- দেবীর ইবাদতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকত তা হলে এটা হত স্ববিরোধিতাঅথচ এমন স্ববিরোধিতা থেকে তারা নিজদেরকে বিরত রেখেছে। কিন্তু আজকের কবর পূজারীরা এই জঘন্যতম স্ববিরোধিতা থেকে নিজদেরকে বিরত রাখছে না। তারা একদিকে বলে, ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ অন্যদিকে মৃত ব্যক্তি এবং মাজার ভিত্তিক ইবাদতের মাধ্যমে এ কালেমার বিরোধিতা করে থাকে। অতএব ধ্বংস ঐ সকল ব্যক্তির জন্য যাদের চাইতে আবু জাহাল ও আবু লাহাব ছিল কালেমা ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ এর অর্থ সম্পর্কে আরো বেশী অভিজ্ঞ।

সংক্ষিপ্ত কথা হলোযে ব্যক্তি কালেমার অর্থ জেনে বুঝে কালেমার দাবী অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে এর স্বীকৃতি দান করল এবং প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সর্বাবস্থায় নিজকে শির্ক থেকে বিরত রেখে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতকে নির্ধারণ করলসে ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে মুসলিম আর যে এই কালেমার মর্মার্থকে বিশ্বাস না করে এমনিতে প্রকাশ্যভাবে এর স্বীকৃতি দান করল এবং এর দাবী অনুযায়ী গতানুগতিকভাবে কাজ করল সে ব্যক্তি মূলত মুনাফিক আর যে মুখে এ কালেমা বলল এবং শির্ক এর মাধ্যমে এর বিপরীত কাজ করল সে প্রকৃত অর্থে স্ববিরোধী মুশরিক সুতরাং এ কালেমা উচ্চারণের সাথে সাথে অবশ্যই এর অর্থ জানতে হবে। কারণ অর্থ জানাই হচ্ছে এর দাবী অনুযায়ী আমল করার মাধ্যম। আল্লাহ বলেন,
﴿ إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلۡحَقِّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ ٨٦ ﴾ [الزخرف: ٨٦] 
 “তবে যারা জেনে বুঝে সত্যের সাক্ষ্য দিল তারা ব্যতীত (অন্যরা সুপারিশের অধিকারী হবে না)’’ (আয-যখরুফ৮৬)
আর এ কালেমার চাহিদা অনুযায়ী আমল হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল কিছুর ইবাদতকে অস্বীকার করা এ কালেমা দ্বারা মূল উদ্দেশ্য তো তাই।
আর কালেমা ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ এর অন্যতম দাবী হলো ইবাদতমোয়ামেলাত (লেন-দেন) হালাল-হারামসর্বাবস্থায় আল্লাহর বিধানকে মেনে নেওয়া এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও প্রবর্তিত বিধানকে বর্জন করা আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿أَمۡ لَهُمۡ شُرَكَٰٓؤُاْ شَرَعُواْ لَهُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا لَمۡ يَأۡذَنۢ بِهِ ٱللَّهُۚ ﴾ [الشورى: ٢١] 
“তাদের কি এমন কোনো শরীক দেবতা আছে যারা তাদের জন্য বিধান রচনা করবে যার অনুমতি আল্লাহ দেন নি। (সূরা আশ- শুরা২১)
এ থেকে বুঝা গেল অবশ্যই ইবাদতলেন-দেন এবং মানুষের মধ্যে বিতর্কিত বিষয়সমূহ ফয়সালা করতে আল্লাহর বিধানকে মেনে নিতে হবে এবং এর বিপরীত মানব রচিত সকল বিধানকে ত্যাগ করতে হবে। এ অর্থ থেকে আরো বুঝা গেল যেসমস্ত বিদ‘আত এবং কুসংস্কার যা জ্বীন ও মানবরূপী শয়তান রচনা করেতাও পরিত্যাগ করতে হবে আর যে এগুলোকে গ্রহণ করবে সে মুশরিক বলে গণ্য হবে যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿ وَإِنۡ أَطَعۡتُمُوهُمۡ إِنَّكُمۡ لَمُشۡرِكُونَ ١٢١ ﴾ [الانعام: ١٢١] 
“যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা মুশরিক” (আল-আন‘আম: ১২১)
আল্লাহ আরো বলেন,
﴿ ٱتَّخَذُوٓاْ أَحۡبَارَهُمۡ وَرُهۡبَٰنَهُمۡ أَرۡبَابٗا مِّن دُونِ ٱللَّهِ ﴾ [التوبة: ٣١]
“আল্লাহ ব্যতীত তারা তাদের পণ্ডিত ও পুরোহিতদেরকে রবরূপে গ্রহণ করেছে’’। (সূরা আত-তাওবাহ৩১)

সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আদী ইবনে হাতেম আত-ত্বায়ীর সামনে উল্লেখিত আয়াত পাঠ করেন তখন ‘আদী বললেনহে আল্লাহর রাসূলআমরা আমাদের পীর-পুরোহিতদের ইবাদত করি না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনআল্লাহ যে সমস্ত জিনিস হারাম করেছেন তোমাদের পীর-পুরোহীতরা তা হালাল করেছেআর আল্লাহ যে সমস্ত জিনিস হালাল করেছেন তা তারা হারাম বা অবৈধ করেছেতোমরা কি এতে তাদের অনুসরণ কর না আদী বললেনঅবশ্যই হাঁএতে আমরা তাদের অনুসরণ করতাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বললেনএটাই তাদের ইবাদত।

আশ-শাইখ আবদুর রহমান ইবন হাসান বলেন, সুতরাং অন্যায় কাজে তাদের আনুগত্য করার জন্যই এটা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের ইবাদত হয়ে গেল এবং এরই মাধ্যমে পীর পুরোহিতদের তারা নিজেদের রব হিসাবে গ্রহণ করল। আর এ হলো আমাদের বর্তমান জাতির অবস্থা এবং এটা এক প্রকার বড় শির্ক যার মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদকে অস্বীকার করা হয়যে একত্ববাদ বা তাওহীদের অর্থ বহন করে কালেমা “লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ” এর সাক্ষ্য অতএব এখানে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যেএই ইখলাসের কালেমা (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ) এসব বিষয়কে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে কারণ তা এ কালেমার অর্থের সম্পূর্ণ বিরোধী।
অনুরূভাবে মানব রচিত আইনের কাছে বিচার চাওয়া, বিচারের জন্য সেগুলোর দ্বারস্থ হওয়া পরিত্যাগ করা ওয়াজিব। কেননাবিচার ফয়সালাতে আল্লাহর কিতাব কুরআনের কাছে যাওয়া ওয়াজিব। তদ্রূপ আল্লাহর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো আইন ও বিধানের কাছে বিচারের জন্য যাওয়া পরিত্যাগ করাও ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন,
﴿ فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ ﴾ [النساء: ٥٩] 
“তারপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড় তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ কর।” (আন্ নিসা-৫৯)
আল্লাহ আরো বলেন,
 ﴿وَمَا ٱخۡتَلَفۡتُمۡ فِيهِ مِن شَيۡءٖ فَحُكۡمُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبِّي ﴾ [الشورى: ١٠] 
“তোমরা যে বিষয়ই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে, আর সে আল্লাহ, তিনিই আমার রব”। (সূরা আশ্-শূরা ১০)
যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুম মোতাবেক ফয়সালা করে না তার বিষয়ে আল্লাহর ফয়সালা হলো এই যেসে কাফের অথবা যালেম অথবা ফাসেক এবং তার ঈমানদার থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী যে ব্যক্তি ফয়সালা করবে না সে কাফের হয়ে যাবে যখন সে শরীয়ত বিরোধী ফায়সালা দেয়াকে জায়েয বা মোবাহ মনে করবে অথবা মনে করবে যেতার ফয়সালা আল্লাহ তাআলার ফয়সালা থেকে অধিক উত্তম বা অধিক গ্রহণীয় এমন বিশ্বাস পোষণ করা হবে তাওহীদ পরিপন্থীকুফুরী ও শির্ক এবং তা لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এই কালেমার অর্থের একেবারে বিরোধী
আর যদি বিচারক বা শাসক শরীয়ত বিরোধী ফয়সালা দানকে মোবাহ বা জায়েয মনে না করেবরং শরীয়ত অনুযায়ী ফয়সালা প্রদানকে ওয়াজিব মনে করে কিন্তু পার্থিব লালসার বশবর্তী হয়ে নিজের মনগড়া আইন দিয়ে ফয়সালা করে তবে এটা ছোট শির্ক ও ছোট কুফরীর পর্যায়ে পড়বে তবে এটাও لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর অর্থের পরিপন্থী। অতএব لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ একটি পূর্ণাঙ্গ পথ ও পদ্ধতি, এ কালেমাই মুসলিমদের জীবনকে সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং পরিচালনা করবে তাদের সমস্ত ইবাদত-বন্দেগী এবং সমস্ত কাজ কর্মকে। এই কালেমা শুধুমাত্র কতগুলো শব্দের সমারোহ নয় যেনা বুঝে একে সকাল সন্ধ্যার তাসবীহ হিসাবে শুধুমাত্র বরকতের জন্য পাঠ করবে আর এর দাবী অনুযায়ী কাজ করা থেকে বিরত থাকবে অথবা এর নির্দেশিত পথে চলবে না মূলতঃ অনেকেই একে শুধুমাত্র গতানুগতিক ভাবে মুখে উচ্চারণ করে থাকেকিন্তু তাদের বিশ্বাস ও কর্ম এর পরিপন্থী
কালেমা لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ এর আরো দাবী হলো, আল্লাহর যত গুবাচক নাম ও তাঁর নিজ সত্তার যে সমস্ত নাম আছে যে গুলোকে তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন সে সব নাম ও গুণাবলীকে যথাযথভাবে সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿وَلِلَّهِ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰ فَٱدۡعُوهُ بِهَاۖ وَذَرُواْ ٱلَّذِينَ يُلۡحِدُونَ فِيٓ أَسۡمَٰٓئِهِۦۚ سَيُجۡزَوۡنَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ١٨٠ ﴾ [الاعراف: ١٨٠] 
“আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সবচেয়ে উত্তম নামসমূহকাজেই সে সমস্ত নাম ধরেই তাঁকে ডাক, আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল অবশ্যই পাবে (আল-আ‘রাফ: ১৮০)

ফাতহুল মজিদ কিতাবের লেখক বলেন, আরবদের ভাষায় প্রকৃত ‘ইলহাদ’ বলতে বুঝায়সঠিক পথ পরিহার করে বক্র পথ অনুসরণ করা এবং বক্রতার দিকে ঝুকে পড়ে পথভ্রষ্ট হওয়াকে।
 আল্লাহর সমস্ত নাম এবং গুনবাচক নামের মধ্যেই তাঁর পরিচয় এবং কামালিয়াত ফুটে উঠে বান্দার নিকট। লেখক আরো বলেনঅতএব আল্লাহর নামসমূহের বিষয়ে বক্রতা অবলম্বন করা মানে ঐ সমস্ত নামকে অস্বীকার করাঅথবা ঐ সমস্ত নামের অর্থকে অস্বীকার বা অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রাসঙ্গিক মনে করাঅথবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে এর সঠিক অর্থকে পরিবর্তন করে দেওয়াঅথবা আল্লাহর ঐ সমস্ত নাম দ্বারা তাঁর মাখলুকাতকে বিশেষিত করা। যেমন ওহদাতুল ওয়াজুদ পন্থিরা স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে এক করে সৃষ্টির ভাল-মন্দ অনেক কিছুকেই আল্লাহর নামে বিশেষিত করেছে।
অতএব যে ব্যক্তি মুতাযিলা সম্প্রদায় বা জাহমিয়া বা আশায়েরা মতবাদে বিশ্বাসীদের অনুরূপ আল্লাহর নামসমূহের ও গুনাবলীর অপব্যাখ্যা করলঅথবা সেগুলোকে অপ্রয়োজনীয় ও অর্থ-সারশুন্য মনে করলঅথবা সেগুলোর অর্থ বোধগম্য নয় বলে মনে করল এবং এসব নাম ও গুণাবলীর সুমহান অর্থের উপর বিশ্বাস আনলো না সে মুলত আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে বক্রতার পথ অবলম্বন করল এবং ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ এর অর্থ ও উদ্দেশ্যেরই বিরোধিতা করল। কেননা ‘‘ইলাহ’’ হলেন তিনি, যাঁকে তার নাম ও সিফাতের মাধ্যমে ডাকা হয় এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করা হয়। আল্লাহ বলেন, (فَادْعُوْهُ بِهَا“ঐ সমস্ত নামের মাধ্যমে তাঁকে ডাক’’। আর যার কোনো নাম বা সিফাত নেই সে কিভাবে ‘‘ইলাহ’’ বা উপাস্য হতে পারে এবং কিসের মাধ্যমে তাকে ডাকা হবে?

ইমাম ইবনুল কাইয়েম বলেন, শরীয়াতের বিভিন্ন হুকুম আহকামের বিষয়ে এ উম্মতের পূর্ববর্তী মানুষগণ বিতর্কে লিপ্ত হলেও সিফাত সংক্রান্ত আয়াতসমূহে বা এসম্পর্কে যে সংবাদ এসেছে তাতে কেউ বিতর্কে লিপ্ত হয়নি। বরং সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যেআল্লাহর এসমস্ত আসমায়ে হুসনা এবং সিফাতের প্রকৃত অর্থ বুঝার পর ঠিক যেভাবে তা বর্ণিত হয়েছে, কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা ছাড়াই তা ঐ ভাবেই মেনে নিতে হবে এবং স্বীকৃতি দান করতে হবে। এখানে প্রমাণিত হলো যেআল্লাহর আসমায়ে হুসনা এবং সিফাতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ তাওহীদ ও রিসালাতকে দৃঢ়ভাবে প্রতিপন্ন করার এটাই মূল উৎস এবং তাওহীদের স্বীকৃতর জন্য এ সমস্ত আসমায়ে হুসনার স্বীকৃতি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এজন্যই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন; যাতে কোনো প্রকার সংশয়ের অবকাশ না থাকতে পারে
হুকুম-আহকাম তথা বিধি-বিধানের আয়াতগুলো বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ ব্যতীত সবার জন্য বুঝে উঠা একটু কঠিন কাজকিন্তু আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত আয়াতসমূহের সাধারণ অর্থ সব মানুষই বুঝতে পারে। অর্থাৎ তাঁর সত্তা ও আকৃতি বুঝা ব্যতীত আসল অর্থ সকলই বুঝতে পারে।
লেখক আরো বলেনএটি এমন একটি বিষয় যা সহজাত প্রবৃত্তিসুস্থ মস্তিস্ক এবং আসমানী কিতাবসমূহের মাধ্যমে বুঝতে পারা যায় যেযার মধ্যে পূর্ণতা অর্জনের সমস্ত গুণাবলী না থাকে সে কিছুতেই ইলাহ বা মা‘বুদপরিচালক ও রব হতে পারে না সে হবে নিন্দিত ত্রুটিপূর্ণ ও অপরিপক্ক এবং পূর্বাপর কোনো অবস্থায় সে প্রশংসিত হতে পারে না। সর্বাবস্থায় প্রশংসিত হবেন তিনিই যাঁর মধ্যে কামালিয়াত বা পূর্ণতা অর্জনের সমস্ত গুণাবলী বিদ্যমান থাকে। এ জন্যই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের পূর্বকালীন মনীষীগণ সুন্নাতের উপর বা আল্লাহর সিফাত সাব্যস্তকরণ যেমনতাঁর সকল সৃষ্টির উর্ধ্বে থাকাতাঁর কথোপকথন ইত্যাদির উপর যে সব গ্রন্থ রচনা করেছেন সেগুলোর নাম দিয়েছেন ‘‘আত-তাওহীদ’’ হিসেবে। কারণ এ সমস্ত গুণাবলীকে অগ্রাহ্য বা অস্বীকার করা এবং এর সাথে কুফরী করার অর্থ হলো, সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা এবং তাঁকে না মানা। আর আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদের অর্থ হচ্ছে তাঁর সমস্ত কামালিয়তের সিফাতকে মেনে নেওয়া, সমস্ত দোষত্রুটি ও অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় হওয়া থেকে তাঁকে পবিত্র মনে করা।

সালাতে মন স্থির রাখার উপায় কি?

সালাতে মন স্থির রাখার উপায় কি?

১) সালাতের প্রস্তুতি নিয়ে শান্ত মনে আগেভাগে মসজিদে আসা।

২) সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা।
আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ”সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ কর। কেননা, মানুষ যখন সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তখন সে তার সালাতকে সুন্দর ভাবে আদায় করতে সক্ষম হয়। ”
(সনদ হাসান, সিলসিলা সহীহাহ/২৮৩৯)


৩) “আমি আল্লাহকে দেখছি বা তিনি আমাকে দেখছেন” এই অনুভূতি মনে
জাগ্রত রাখা।


৪) এ কথা স্মরণ করা যে, আল্লাহ তায়ালা সালাতে বান্দার প্রতিউত্তর করে থাকেন।


৫) এ কথা স্মরণ রাখা যে, সালাতে মূলত: আল্লাহর সাথে চুপিসারে কথা বলা হয়।


৬) সালাতে পঠিত দুয়া-তাসবীহ ও সূরা-কিরাতের অর্থ অনুধাবন করা।


৭) খাবার উপস্থিত রেখে বা পেশা- পায়খানা চেপে সালাত আদায় না করা। কেননা, এতে মনোযোগ বিঘ্নিত হয়।


৮) সেজদায় বেশী বেশী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা।

রাসূল সা. বলেছন, বান্দা যখন সিজদায় থাকে তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে সন্নিকটে থাকে। অত:এব, তোমরা (সিজদা অবস্থায়) অধিক পরিমানে দুয়া কর।” (সহীহ মুসলিম) তবে একাকী সালাত, নফল, সুন্নত, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সিজদায় অধিক পরিমাণে দুয়া করা ভালো। কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুয়া সমূহ অধিক হারে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া নিজের মাতৃভাষায়ও আল্লাহর নিকট নিজের কামনা-বাসনা তুলে ধরে দুয়া
করা যাবে।


৯) হাই আসলে মুখে হাত দিয়ে যথা সম্ভব তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা।


১০) সিজদার স্থানে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা এবং অন্য দিকে দৃষ্টিপাত না করা।


১১) ভয়-ভীতি ও ধীর স্থিরতা সহকারে সালাত আদায় করা।


১২) শয়তানের উপস্থিতি টের পেলে চুপি স্বরে আউযুবিল্লাহ.. পাঠ করা ও বাম দিকে অতি হালকা ভাবে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করা।


আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসূল, শয়তান আমার সালাত ও কেরাআতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে দেয়। তিনি বললেন: এটি হল শয়তান। যার নাম খিনযাব। তুমি যদি এমনটি অনুভব কর, তবে “আউযু বিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম
পাঠ কর এবং তোমার বাম পাশে তিনবার হালকা ভাবে থুথু নিক্ষেপ কর।” তিনি বলেন, আমি এমনটি করায় আল্লাহ তায়ালা আমার এ সমস্যা দূর করে দিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম)


উল্লেখ্য যে, শরীর বা কাঁধ বাম দিকে ঘুরার প্রয়োজন নাই। কেবল মাথাটা সামান্য বাম দিকে নিয়ে খুব হালকা ভাবে থুথু ফেলার মত করবে। (এতে মুখ থেকে পানি নির্গত হবে না।) এমনটি করলে শয়তান লাঞ্ছিত অবস্থায় পলায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।


গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল,
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব

বিদআতের ভয়াবহতা এবং আমাদের সমাজের চিত্র


বিদআতের ভয়াবহতা এবং আমাদের সমাজের চিত্র


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

"যে ব্যক্তি এমন আমল করল যে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই তা পরিত্যাজ্য।" (সহীহ মুসলিম)
ভূমিকাঃ সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ, পৃথিবীর দ্বীতিয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ নানা ধরণের সমস্যায় জর্জরিত। তম্মধ্যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা হল বিদআত সমস্যা। বর্তমানে আমরা অজ্ঞতা বা বিভিন্ন কারণে ধর্মের নামে নানা ধরণের বিদআতী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছি। যার কারণে আমরা যেন ধীরে ধীরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহ থেকে দূরে সরে পড়ছি। তাই মুসলিম ভাই-বোনদেরকে এ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। এতে আমি বিদআতের সংজ্ঞা, বিভক্তি, কি ভাবে বিদআত শুরু হয় এবং বিদআত করার কি ভয়াবহ পরিণতি ইত্যাদি যথাসম্ভব উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ সহকারে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথের উপর অটুট থেকে জীবন পরিচালনা করার তওফীক দান করুন।
বিদআতের সংজ্ঞাঃ বিদআতের আবিধানিক অর্থ হল, নব আবিস্কৃত ও নব উদ্ভাবন। পারিভাষিক অর্থে দ্বীনের মধ্যে নতুন কোন কিছু সংযোজন করার নাম বিদআত।
ইমাম নওবী (রহঃ) বিদআত শব্দের অর্থ লিখেছেন, “(ছোওয়াবের আশায়) এমন সব কাজ করা বিদআত যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই।”
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) লিখেছেন, “শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত হল, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে ছিল না এমন নীতি ও পথ কে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে প্রবর্র্তন করা।”
অন্য ভাষায় বলতে গেলে, প্রত্যেক সে কাজকে বিদআত বলা হয় যা সোয়াব ও পূণ্যের নিয়তে করা হয় কিন্তু শরীয়তে তার কোন ভিত্তি বা প্রমাণ পাওয়া যায়না। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে করেননি এবং কাউকে তা করার অনুমতি ও প্রদান করেননি। এরূপ আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণ যোগ্য হয় না। (বুখারী ও মুসলিম)
দ্বীনের সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকারক বিষয় হলো বিদআতঃ যেহেতু বিদআতকার্য পূণ্য ও ছাওয়াবের কাজ মনে করা হয় সেহেতু বিদআতী ব্যক্তি তা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেনা। অথচ অন্যান্য পাপসমূহে বোধশক্তি থাকে। তাই আশা করা যায় যে, পাপী কোন না কোন দিন আপন পাপে লজ্জিত হয়ে নিশ্চয় তওবা-ইস্তেগফার করবে। এ জন্যই ছুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন, “শয়তান পাপের পরিবর্তে বিদআতকেই খুবই ভালোবাসে।”
বিদআতী কাজ যেহেতু সাওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয় সেহেতু বিদআত থেকে তাওবা করার চিন্তা ও করা হয় না। তাই বিদআতীর মৌলিক আকীদা সংশোধন হওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা।
শরীয়তের দৃষ্টিতে দুটি পাপ এমন আছে যেগুলো না ছাড়া পর্যন্ত কোন আমল কবুল হয়না । পাপ দুটি হল, শিরক ও বিদআত।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আল্লাহ তাআলা বান্দার পাপ মাফ করতে থাকেন যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালার মাঝে পর্দা হয়। ছাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, পর্দা কী? তিনি বললেন, “পর্দা হলো, মানুষ শিরক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করা।” (মুসনাদ আহমাদ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আল্লাহ তায়ালা বিদআতীর তওবা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না বিদআত ছেড়ে দেয়।” (তাবারানী)
কিয়ামতের দিন যখন রাসূল আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাউযে কাওসারে আসবেন যাদেরকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উম্মত মনে করবেন কিন্তু ফেরেশ্তাগণ বলবেন, এরা হলো সে সকল ব্যক্তি যারা আপনার পরে বিদআত শরু করে দিয়েছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বলবেন, “সুহকান, সুহকান” “দূর হয়ে যাও, দূর হয়ে যাও সে সকল লোক যারা আমার পরে দ্বীনকে পরিবর্তন করেছ।” (বুখারী ও মুসলিম)
কিয়ামতের দিন কিছু লোক এমন হবে যারা আমল করে ক্লান্ত হয়ে গেছে কিন্তু জলন্ত আগুনে তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে। (সূরা গাশিয়া ৩-৪)

ইসলাম প্রচারের ৭২টি পদ্ধতি

ইসলাম প্রচারের ৭২টি পদ্ধতি
     সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি দ্বীনের পথে দাওয়াত  দান কারীর সর্বোত্তম প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন:
وَمَنْ أحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعاَ إلىَ اللهِ وَعَمِلَ صاَلِحاً وَقاَلَ إنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ
 “ঐ ব্যক্তির চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে যে আল্লাহর পথে আহবান করে এবং সৎ আমল করে। আর বলে নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্গত।” (সূরা ফুছ্ছিলাত: ৩৩) দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক আমাদের সর্বোত্তম আদর্শ ও প্রিয় নবী ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যিনি এরশাদ করেছেন: ‘যে ব্যক্তি সৎপথে আহবান করে, সে তার অনুসরণকারীর  অনুরূপ সওয়াব পাবে।’ (মুসলিম)
      অত:পর নিশ্চয় মুসলিম ব্যক্তি একথা ভাল করেই জানে যে, আল্লাহ তাকে দ্বীন দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং তা আমানত হিসেবে তাকে প্রদান করেছেন। নিশ্চয় তিনি তাকে সেই দ্বীন ও আমানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন
 (وَإنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ، وَسَوْفَ تُسْأَلُوْنَ)
নিশ্চয় এই কুরআন আপনার ও আপনার কওমের লোকদের জন্য উপদেশ স্বরূপ। অচিরেই সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হতে হবে।” (সূরা যুখরুফ: ৪৪)
     একজন মুসলিম ব্যক্তি অত্যন্ত খুশী হয় যখন সে এই আমানতটি আদায় করত: অন্যদের আল্লাহর পথে হেদায়েতের মাধ্যম হয়।
(قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا، هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُوْنَ)
“বলুন! আল্লাহর অনুগ্রহ ও তার রহমতে তারা আনন্দ করুক। ইহাই তাদের জন্য (সম্পদ) জমা করার চেয়ে উত্তম।” (সূরা ইউনুস: ৫৮)
     বর্তমান কালে আল্লাহ প্রদত্ত অনুগ্রহের অন্যতম হল: দাওয়াতের মাধ্যম, উপকরণ ও পথের বিভিন্নতা। যাতে করে প্রত্যেকেই তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং তার মর্যাদা ও মহান সওয়াব অর্জন করতে পারে। দাওয়াত  প্রদানকারী লক্ষ্য করবে কোন উপকরণটি মাদঊর (দাওয়াত কৃত ব্যক্তি) জন্য উপযুক্ত হবে- সেই সাথে ভিন্ন ভিন্ন ও নতুন নতুন উপকরণের খেয়াল রাখবে। যেমনটি নূহ (আ:) এবং অন্যান্য নবীদের পদ্ধতি ছিল। দাঈর উচিত, যাদেরকে সে দাওয়াত  দিবে তাদের স্তর ও তাদের অবস্থান সমূহের খিয়াল রাখবে। যাতে করে দাওয়াত সবাইকে শামিল করে। যাদেরকে দাওয়াত  দেয়া হয় তারা মূলত: পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, চাকর-বাকর, সেবক-সেবিকা, ভ্রমণকারী, প্রতিবেশী ও সাথী প্রভৃতি। কিছু স্থান রয়েছে যা দাওয়াতের ক্ষেত্র হিসাবে গণ্য করা যায়। যেমন: মসজিদ, ঈদগাহ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, জেলখানা, পার্ক, সমুদ্র সৈকত, বিভিন্ন বৈঠক, খেলার মাঠ, পিকনিক স্পট, হজ্জের তাঁবু, হোটেল, আবাসিক এলাকা, বিমান বন্দর, বিবাহ অনুষ্ঠান কেন্দ্র (কমিউনিটি সেন্টার), বাজার, সেলুন, যানবাহনের বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম। পাসপোর্ট অফিস, লেবার কোর্ট, দূতাবাস, বাণিজ্যিক কেন্দ্র সমূহ… ইত্যাদি। আর দাওয়াতী  মাধ্যম যেহেতু ইজতেহাদী বিষয় কাজেই উচিত হবে অপর ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়া। নিজে থেকে নতুন কিছু তৈরি করা এবং এ মাধ্যমকে আরও উন্নত করা। সাধ্যানুযায়ী প্রত্যেকের দাওয়াতী  কাজ করা উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাকে সঠিক পথের হেদায়েত দানকারী  বানিয়ে দিন। (আমীন)
দাওয়াতের ৭২টি পদ্ধতি:
পরিবারের মাঝে দাওয়াত:
  1. পারিবারিক লাইব্রেরী: (লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পরিবারের সকল সদস্যের উপযোগী বই-ম্যাগাজিন, ক্যাসেট তাতে থাকে।)
  2. পারিবারিক দেয়ালিকা প্রকাশ: এতে বিভিন্ন ধরণের দাওয়াতী  প্রবন্ধ, বিজ্ঞাপন থাকবে। তাতে নতুনত্ব থাকবে এবং পরিবারের সকল সদস্য তাতে শরীক হবে।
  3. পারিবারিক দরসের ব্যবস্থা: (এটা নির্দিষ্ট কোন কিতাব থেকে পাঠ দান হতে পারে  বা কোন ক্যাসেট শ্রবণ বা কুরআন বা হাদীছ থেকে কিছু মুখস্থ করার মাধ্যমে হতে পারে।)
  4. পারিবারিক প্রতিযোগিতা: (পুরস্কার হিসেবে বোর্ডে বিজয়ীর নাম লিখবে অথবা ছোটখাটো  পুরস্কার নির্ধারণ করবে)
  5. পারিবারিক পত্রিকা: (যদিও তা কোন ম্যাগাজিন বা পত্রিকা হতে বাছাই করা প্রবন্ধও হয়না কেন। এসব লিখনিতে পরিবারের সদস্যরা শরীক হবে।)
  6. পরিবারের সামনে সৎ আমল প্রকাশ করা: (যেমন: নামায, কুরআন তিলাওয়াত, ছদকা প্রভৃতি তাদেরকে দেখিয়ে করা যাতে করে তারা আপনার অনুসরণ করতে পারে এবং শিখতে পারে।)
মসজিদে দাওয়াত:
  1. মসজিদের পক্ষ থেকে ইসলামী দেয়ালিকা প্রকাশ করার ব্যবস্থা করা। এছাড়াও মসজিদ ভিত্তিক বিভিন্ন দাওয়াতী তৎপরতায় অংশ গ্রহন করা। যেমন: মসজিদ ভিত্তিক লাইব্রেরী, মসজিদ ভিত্তিক কুরআন হিফযের হালকা ইত্যাদি তৈরী করা।
  2. ইসলামী বা সাধারণ উপকারী বই-পুস্তক, ক্যাসেট ধার দেয়া বা দাতা মহল থেকে নিয়ে এসে অথবা ক্রয় করে এনে মসজিদে রাখা। (কুরআন সেলফে অন্যান্য বই-পুস্তক রাখা যেতে পারে বিশেষ করে কুরআনের তাফসীর বা তার অনুবাদ রাখা যেতে পারে।
  3. বিভিন্ন ইসলামিক আলোচনা সভা, ওয়াজ মাহফিল,  দরস প্রভৃতির বিজ্ঞপ্তি মসজিদে মসজিদে পৌঁছিয়ে দেয়া বা প্রচার কার্যে অংশ গ্রহন করা।
10. কোন বক্তা বা আলোচককে মসজিদে দরস বা আলোচনার জন্য দাওয়াত  করা।
11. এলাকার মসজিদ কমিটিকে সাথে নিয়ে সমাজ ভিত্তিক দাওয়াতী  ও সামাজিক উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন তৎপরতায় অংশ গ্রহন করা।
স্কুল/মাদরাসায় দাওয়াত:
12. স্কুল/মাদরাসার দেয়ালিকা বা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহন করা এবং বাইরের ইসলামী আলোচনা, দরস প্রভৃতির বিজ্ঞাপন ওখানে প্রকাশ করা।
13. ছাত্রদের মাঝে ইসলামী বা সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করা।
14. ছাত্রদের প্রশ্ন বা অভিযোগ সমূহ একত্র করে বিশেষজ্ঞদের নিকট উপস্থাপন করা।
অন্যান্য দাওয়াতী  মাধ্যম সমূহ:
15. সময়োপযোগী দাওয়াতী  বক্তব্য বা বাণী সম্বলিত বিভিন্ন বোর্ড স্থাপন করা বা দেয়ালে লকটানোর ব্যবস্থা করা।
16. অভিনন্দন কার্ড, ঈদ কার্ড, বিভিন্ন বৈধ দৃশ্য সম্বলিত কার্ড পত্র যোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। (যাতে বিভিন্ন ধরণের দৃশ্য এবং সময়োপযোগী ভাল ভাল কথা থাকবে)
17. দাওয়াতী এলবাম তৈরী করা। যাতে থাকবে বিভিন্ন ধরণের হৃদয়গ্রাহী ছবি, প্রকৃতিক দৃশ্য এবং গঠনমূলক ও দিক নির্দেশনা মূলক  কথা থাকবে।  
18. বিবাহের দাওয়াত কার্ড বিতরণ করার সময় কার্ডটি ছোট-খাট একটি ভাল বইয়ের কভার হিসাবে ব্যবহার করা।
19. যে ব্যক্তিকে দাওয়াত দেয়া উদ্দেশ্য তাকে (যোগ্যতা অনুযায়ী) দাওয়াতী বিষয়ে লেখা কোন প্রবন্ধ বা বই ভাষা গত সম্পাদনা করার জন্য দেয়া এবং তাকে সেটা ছাপানো বা ফটোকপি করে বিতরণের দায়িত্ব দেয়া।
20. মোবাইল ফোন, ইমেইল প্রভৃতির মাধ্যমে (দীনী কোন অনুষ্ঠানের কথা বা ইসলামী আলোচনা প্রভৃতির কথা স্মরণ করিয়ে ) এবং দাওয়াতী চিঠি- পত্র দেয়া।
21. ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাওয়াতী কথা বলা। ইন্টারনেট প্রোগ্রামের মাধ্যমে দাওয়াহ বিষয়ক চ্যাটিং বা কথোপকথনে শরীক হওয়া।
22. দাওয়াতী  কার্ড বা স্টিকার বিতরণ করা: যেমন সফর ও বাহনে উঠার দুয়া, বিভিন্ন সময়ের যিকর-আযকার। প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। (এর অন্যতম হল: কিবলা নির্দেশক স্টিকার বিভিন্ন হোটেল প্রভৃতিতে লাগানো। উহা সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিকে নামাযের কথা স্মরণ করাবে।
23. নামাযের ক্যালেন্ডার বের করা।
24. দাওয়াতী কর্মসূচী ও পাঠ্যসূচী সম্বলিত ডায়েরী ও খাতা প্রভৃতি দাওয়াতী কাজে ব্যবহার করা।
25. দাওয়াতী বিষয় সম্বলিত পকেট কার্ড তরী কর। (উহা বিক্রেতার নিকট রাখা যেতে পারে। যাতে করে সে তা ক্রেতাকে বিনামূলে উপহার দিতে পারে।
26. কয়েকটি পকেট কার্ড সম্বলিত দাওয়াতী ব্যাগ তৈরী করে তা বিতরণ করা। তাতে বিষয় ভিত্তিক বিভিন্ন বই-পুস্তক ও লিফলেট রাখা যায়।
27. কোন ব্যক্তিকে কোন ইসলামী পত্রিকার (নিজ অর্থে বা গ্রহকের নিকট অর্থ নিয়ে) গ্রাহক বানিয়ে দেয়া।
28. প্রয়োজনাতিরিক্ত ম্যাগাজিন, ইসলামী বই প্রভৃতি সংগ্রহ করে তা বিতরণ করা বা কারো নিকট পাঠানো।
29. খারাপ ক্যাসেট, খারাপ ম্যাগাজিন, মানুষের কাছ থেকে.. সেলুন প্রভৃতি থেকে উদ্ধার করে তার পরিবর্তে ভালমানের বক্তৃতার ক্যাসেট, ইসলামী ম্যাগাজিন দ্বারা পরিবর্তন করা।
30. দাওয়াতী চয়নিকা। কিছু বই, ক্যাসেট, ঘটনা বা প্রেক্ষাপট উপযোগী যেমন: হাজী, মুসাফির, আগন্তুক, অসুস্থ, ডাক্তার, বন্দী, নারী, শিশু, বর- কনে, ঈদ প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বই/ক্যাসেট প্রস্তুত করা।
31. বিদ্যুৎ, টেলিফোন, পানি প্রভৃতির বিলের সাথে দাওয়াতী  প্রচারণা নির্দেশনা প্রকাশ করা।
32. ক্যালেন্ডার, পঞ্জিকা, ব্যবসায়িক প্লাস্টিক ব্যাগ, চাবির রিং, কলম প্রভৃতির মধ্যে দাওয়াতী  বাক্য লিখা। এগুলো মানুষ খুব বেশী ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে এগুলো করা যায়। তাদেরকে উপযুক্ত বাক্য সমূহ যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।
33. শ্রেণী ভিত্তিক মানুষের জন্য দাওয়াতী পত্র তৈরি করা। (যেমন মসজিদের প্রতিবেশী, ডাক্তার, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক, পিতা-মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়িক, জেলের আসামী, মুসাফির … )
34. সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা বা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বা নির্দিষ্ট লোকদের জন্য প্রতিযোগিতার জন্য বই, ক্যাসেট প্রস্তুত করা বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। তা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হতে পারে। আর এর পুরস্কার দাওয়া সেন্টারে বা দাওয়াতী  কোন অনুষ্ঠানে বিতরণ  করতে হবে।
35. নিম্ন লিখিত বিষয় সমূহের উপর বই বা ক্যাসেট বা অনুষ্ঠান তৈরি করা: (যেমন- অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহনের কাহিনী, বা পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তির তওবার কাহিনীর উপর ভিত্তি করে, কবিতাগুচ্ছ, সাহিত্য, মনিষী চরিত, ভ্রমণ কাহিনী.. দুনিয়াবি বিষয়েও হতে পারে: যেমন- অফিস পরিচালনা, যোগাযোগ, সৃষ্টি জগত, মানুষের শরীর বিষয়ক- যাতে করে যারা সাধারণত: দীনী বই পড়তে চায় না এগুলোর মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছা সম্ভব হবে।
36. বিভিন্ন দাওয়াহ সেন্টারের সাথে যোগাযোগ রাখা, তাদের অফিস পরিদর্শন করা, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা, অন্যদেরকে তাদের পরিচয় ঠিকানা প্রদান করা।
37. দাঈর বা দাওয়া সেন্টারের কর্মকাণ্ডের উপর তাদের প্রশংসা করা। যাতে কারে তাদের ব্যাপারে মাদঊর আগ্রহ সৃষ্টি হয়, তারা সেখানে অংশ গ্রহণ করে।
38. দুআর মাধ্যমেও দাওয়াতী  কাজ করা সম্ভব। যেমন বলবে, ‘আল্লাহর কাছে দুয়া করি তোমাকে তিনি জাহান্নাম থেকে দূরে রাখুন। তিনি আমাদেরকে জান্নাতের মাঝে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে অবস্থানের তাওফীক দিন। অথবা ছাত্রের জন্য দুআ করবে: দুআ করি আল্লাহ্‌ তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন।
39. কোন সফরে দাওয়াতের জন্য টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে বের হওয়া। এটি একটি সুযোগ তাকে সংশোধন করার হেদায়েত করার। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সফর খুবই উপকারী হয়ে থাকে।
40. ছালাতে উদাসীন ব্যক্তির সাথে আযানের মূহুর্তে দেখা করতে যাওয়া এবং তাকে সাথে করে মসজিদে নিয়ে আসা।
41. ইসলামী আলোচনা সভায় বা দরসে লোকজনকে সাথে করে নিয়ে আসা।
42. মাসিক খুতবা সমূহকে লিখিত আকারে প্রস্তুত করা। তারপর বিভিন্ন খতীবদের নিকট তা বিতরণ করা, যাতে করে তা থেকে উপকার লাভ করতে পারে।
43. মসজিদের ইমাম ও খতীবদের পরস্পরের মাঝে দাওয়াতী প্রোগ্রাম বিনিময়। যেমন দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করে এক ইমাম অন্য ইমামের মসজিদ নির্ধারণ করবে। ছালাত শেষ করেই কিছুক্ষণ ওয়াজ-নছীহত করবে। অথবা খতীবগণ মসজিদ পরিবর্তন করে একজনের স্থানে আরেকজন খুতবা প্রদান করতে পারে। এতে বিষয় বস্তু প্রস্তুত করার জন্য দাঈ বা খতীবগণকে বেশী বেগ পেতে হবে না। কেননা শুধু স্থান পরিবর্তন করে একই বিষয়ের উপর সে আলোচনা করা সুযোগ পাচ্ছে।
44. নামায শেষে মুছল্লীদের জন্য ইসলামী কিতাব পাঠের প্রোগ্রাম। এক্ষেত্রে ফতোয়া প্রভৃতি উপকারী কিতাব সমূহ সাথে রাখবে এবং বিভিন্ন কিতাবের জন্য নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে তার দরস দিবে। এ প্রোগ্রাম খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। ৭ থেকে ১০ বা ১২ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। যাতে করে মানুষের মাঝে ক্লান্তি না আসে আর ইলমের প্রসারও সংক্ষিপ্ত সময়ে হতে পারে।
45. সাধারণ পরিবহণ সমূহের মাধ্যমে দাওয়াতী  কাজ। পরিবহণের ড্রাইভার কন্টাক্টর হেলারদেরকে প্রয়োজনীয় বই, ক্যাসেট, লিফলেট, উপযুক্ত দাওয়াতী উপহার সমূহ যথা সময়ে সরবরাহ করতে হবে। এধরণের সহযোগিতা কারী পরিবহণ শ্রমিক/মালিকদেরকে কৃতজ্ঞতা সার্টিফিকেটও প্রদান করা যেতে পারে।
46. রাস্তার ধারে দাওয়াতী বোর্ড স্থাপন। 
47. শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারণ কৃত চল চিত্র স্ক্রিন (টিভি পর্দা) ব্যবহার করা এবং সেখানে আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে দাওয়াতী  কাজের আঞ্জাম দেয়া।
48. ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান সমূহকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা। যাতে করে তাদের মাধ্যমে দাওয়াতী  বিষয় সমূহ প্রর্দশন করা সম্ভব হয়।
49. দাওয়াতী টেলিফোন। যেমন অফিসের টেলিফোন সেটে কোন দাওয়াতী  বিষয় রেকর্ড করে রাখা। উক্ত নম্বরে কেউ টেলিফোন করলেই সে তা শুনতে পাবে। অথবা অপেক্ষা করার জন্য যে সময়টুকু ব্যয় হবে তা কাজে লাগানোর জন্য সেক্ষেত্রেও কিছু দাওয়াতী  বিষয় রেকর্ড করে রাখা যেতে পারে বা কোন ইসলামী রেডিও সেন্টারের সাথে ফোনের সংযোগ রাখা যেতে পারে। অথবা কোন আলোচনা ও দরস টেলিফোনের মাধ্যমে অফিসে প্রচার করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অথবা প্রশ্ন, ফতোয়া, পরামর্শ.. প্রভৃতি জিজ্ঞাসা করার জন্য টেলিফোন ব্যবহার করা যেতে পারে।
50. সাধারণ ডাক বা ইমেইলের মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ করা। এর উদ্দেশ্য হবে কোন মুসলিমকে নছীহত করা বা কোন নওমুসলিমকে শিক্ষা প্রদান করা বা কোন অমুসলিমকে ইসলামের দাওয়াত  দেয়া। (তাদের সাথে সাধারণ পরিচিতির মাধ্যমে বা প্রচার মাধ্যমের দ্বারা তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করা যেতে পারে।) আপনার আশেপাশে যারা দূর এলাকা থেকে এসেছে তাদের মাধ্যমে প্রথমে শুরু করবেন। সেই প্রবাসীর চিঠির সাথে একটি দাওয়াতী  চিঠিও দিয়ে দিবেন।
51. বর্তমানে মোবাইলের যুগে মোবাইলের মাধ্যমে সামান্য অর্থ খরচ করে দাওয়তী কাজ করা যায়। কোন বিষয়ে সুন্দর একটি এসএমএস একজন মানুষের বন্ধ দরজাকে খুলে দিতে পারে।
52. আরবী ভাষা শিক্ষা দান প্রোগ্রাম। বিভিন্ন কোর্স অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বা ক্যাসেট, বই, লিফলেট ইত্যাদি মাধ্যমে এ কাজ করা যেতে পারে। এ সমস্ত মাধ্যমে দাওয়াতী জন্য টার্গেটকৃত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় বিষয় সমূহ সংশ্লিষ্ট করা। যেমন ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং বা ব্যবসা.. প্রভৃতি সংক্রান্ত শব্দ সমূহ।
53. বিভিন্ন ইসলামী কোর্স। (যেমন, দাওয়াতের পদ্ধতি, বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, ইমামতী প্রশিক্ষণ, সন্তান লালন-পালন পদ্ধতি… ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে কোর্সের আয়োজন করা।
54. উন্মুক্ত দাওয়াতী দিবস। সেখানে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। এতে নারীদেরকেও শামিল করা যেতে পারে।
55. মাসিক দাওয়াতী বিষয় বস্তু। তা নির্দিষ্ট করে লিফলেট বা বাণী হিসেবে ছাপিয়ে মসজিদ, মাদরাসা ও স্কুল সমূহে.. বিতরণ করা হবে বা লটকিয়ে দেয়া হবে। যাতে করে বিষয়টি মাসব্যাপী মানুষের আলোচনা-পর্যালোচনার কেন্দ্র বিন্দু হতে পারে।
56. এলাকায় অনুষ্ঠিত সুনির্দিষ্ট দরস সমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত করা। তাতে দরসের বিষয় বস্তু, সময়, স্থান ও আলোচকের নাম উল্লেখ থাকবে থাকবে।
57. ওলামায়ে কেরাম, দাঈ, দাওয়াতী  বা ইসলামী সেন্টার সমূহ, শরঈ বিষয়ে পরামর্শ দাতা ব্যক্তি প্রভৃতির তালিকা প্রকাশ করা।
58. দীনী সাময়িক পত্রিকা সমূহ, ইসলামী রেকর্ডিং সেন্টার সমূহ, ইন্টারনেটের ভাল ওয়েব সাইট সমূহ.. প্রভৃতির তালিকা প্রকাশ করা।
59. দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে ‘পর্যটন ইনডেক্স’ তৈরী। (এতে থাকবে বিভিন্ন শহর বা দেশের প্রসিদ্ধ দাওয়া সেন্টার, লাইব্রেরী, ইসলামী রেকর্ডিং সেন্টার, বড় বড় জামে মসজিদ, সেখানকার প্রসিদ্ধ আলেমদের ঠিকানা… এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।)
60. লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করে জন সাধারণের পড়ার জন্য উন্মুক্ত করা।
61. ইসলামী বই, ক্যাসেট, সিডি ইত্যাদি প্রদর্শনীর আয়োজন করা।
62. ইসলামী বই-পুস্তক ও নিদর্শন সমূহের উপর প্রদর্শনীর আয়োজন করা এবং বিভিন্ন ইসলামী মেলা-প্রদর্শনী সমূহে অংশ গ্রহন করা।
63. দাওয়াতী উপকরণ সমূহের জন্য প্রদর্শণীর আয়োজন করা। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীগণ উপকৃত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত ও পরামর্শের মাধ্যমে সে প্রদর্শণীর মানোন্নয়ন করা।
64. দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে ইসলামী  সাংস্কৃতিক তাঁবু প্রতিষ্ঠা করা।
65. দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে কোন দর্শনীয় স্থানে শিক্ষা সফরের আয়োজন করা।
66. রমাযান মাসে দাওয়াতী ইফতার মাহফিল।
67. হজ্জ-ওমরা প্রশিক্ষণ কোর্স।
68. দাওয়াতী গাড়ি। গাড়ির বিভিন্ন সাইডে প্রয়োজনীয় দাওয়াতী কথা লিখা থাকবে। গাড়িতে প্রয়োজনীয় দাওয়াতী সরঞ্জামাদি থাকবে। ব্যাপক লোক সমাগমের স্থানে গাড়ি গিয়ে পরিবেশ অনুযায়ী ক্যাসেট বা ভিডিও চালাবে, মানুষকে বই, ক্যাসেট, লিফলেট ইত্যাদি বিনামূল্যে বিতরণ করবে বা বিক্রয় করবে।
69. সাধারণ বা ইলেকট্রনিক বোর্ড তৈরি করা। তারপর শহরের উল্লেখযোগ্য স্থানে তা স্থাপন করে বিভিন্ন উপকারী বাণী, দাওয়াতী ঘোষণা বা সংবাদ সমূহ প্রচার করা।
70. দাওয়াহ  অফিসের পক্ষ থেকে ক্রীড়া টিম প্রস্তুত করা। (সেখানে বিভিন্ন দাওয়াতী  অনুষ্ঠান বা বই/ ক্যাসেট/ লিফলেট ব্যবস্থা রাখা)
71. ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা বা ফ্রি প্রিসকেপশনের ব্যবস্থা করা। সেই সাথে দাওয়াতী  কাজ করা।
72. নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোর্স সমূহে দাওয়াতী  প্রোগ্রাম বা উপকরণ সমূহ শামিল করা। যেমন- রান্না শিক্ষা, সন্তান লালন-পালন, সুখী দাম্পত্য জীবন, পারিবারিক অর্থনীতি, চাকরানীদের দীনী শিক্ষা দান, বিবাহের পূর্বে সংসার জীবনের প্রশিক্ষণ, শিশুরোগ সম্পর্কে জ্ঞান দান, পারিবারিক নিরাপত্তা ও ফাস্ট এইড প্রশিক্ষণ.. প্রভৃতি।
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের প্রত্যেককে আল্লাহর দ্বীনের প্রচারক হিসেবে কবুল করে নেন এবং দ্বীনের উপর মর্যাদা ও সাহসের সাথে পথ চলার তাওফীক দান করেন। আমীন।
ইসলাম প্রচারের ৭২টি পদ্ধতি
অনুবাদ: মুহা: আবদুল্লাহ্ আল্ কাফী ও আখতরুল আমান
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী
দাঈ, জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সঊদী আরব।
পো: বক্স নং ১৫৮০, জুবাইল- ৩১৯৫১ সৌদী আরব।

ফোন: +৯৬৬-০৩-৩৬২৫৫০০ এক্স, ১০১১, ১০১২, ১০১৪ ফ্যাক্স: ৩৬২৬৬০০

 Source

জান্নাত প্রার্থনা করা ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুয়া


জান্নাত প্রার্থনা করা ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুয়াঃ ৩ বার

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। 

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, জাহান্নাম আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও”।

তিরমিযিঃ ২৫৭২, ইবনে মাজাহ ৪৩৪০, শায়খ আলবানি এই হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামি ৬২৭৫।

***উল্লেখ্য – সকাল সন্ধ্যায় ৭ বার “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার” পড়ার হাদীসটা জয়ীফ বা দুর্বল, শায়খ আলবানী সিলসিলা জয়ীফাহঃ ১৬২৪। 

সুতরাং সেটা না পড়ে এই দুয়া পড়বেন, কারণ এটাতে জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া দুইটা দোয়া আছে আর এটা সহীহ। ঐটা থেকে এইদুয়াটা ভালো ও সহীহ।

অন্তর নরম করার কিছু আমল

অন্তর নরম করার কিছু আমলঃ
(১) একমনে কুরআন তেলাওয়াত করা ও অর্থসহ বুঝে পড়া।
(২) ক্বারীদের ক্বুরান তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা।
(৩) জামাতে নামায পড়ার জন্যে আগে আগে মসজিদে গিয়ে অপেক্ষা করা। এ সময় সুন্নত সালাত পড়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করা বা ক্বুরান তেলাওয়াত করা।
(৪) সৎ ও জ্ঞানী লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা।

(৫) কুরআন ও সুন্নাহর আলেমদের বই-পুস্তক পড়া ও ওয়াজ-লেকচার শোনা।(৬) বয়ষ্ক, দুর্বল ও অসুস্থ রোগীদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের তুলনায় আল্লাহ আমাকে অনেক ভালো রেখেছেন এই চিন্তা করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।(৭) দ্বীনি মজলিসে বসা।(৮) আল্লাহর নেয়ামতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ও তার জন্যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।(৯) আল্লাহর জন্যে ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যে ঘৃণা করা।(১০) পাপী ও নির্বোধ লোকদের বর্জন করা। অবশ্য দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে মেশা যাবে।(১১) বিদাত ব্যক্তি বা আলিমদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা এবং তাদের সাথে তর্ক না করা।(১২) কুরআনের  সুরা বা আয়াত মুখস্থ করা।(১৩) সর্বদা আল্লাহকে স্বরণ রাখা।(১৪) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী ও হাদীসগুলো পড়া, সেইগুলো নিয়ে আলোচনা করা।(১৫) নির্জনে আল্লাহকে স্বরণ করা এবং নিজের পাপের জন্যে কান্নাকাটি করা।(১৬) অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা।(১৭) বাবা-মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করা। তাদের প্রয়োজন পূরণ করা।(১৮) মুসলমানদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ বর্জন করা এবং সবসময় তাদের প্রতি সদয় থাকা, তাদের জন্য কল্যানকামী হওয়া।(১৯) পাপ ও পাপের আসর বর্জন করা।(২০) গীবত থেকে দূরে থাকা।(২১) মৃত্যুকে স্বরণ করা এবং পরকালের আশায় জীবন কাটানো।(২২) দুনিয়া নিয়ে মত্ত না থাকা, পরকালকেই জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানানো।(২৩) মানুষকে খুশি করার চাইতে আল্লাহকে খুশি করাকে প্রাধান্য দেওয়া।(২৪) ক্ষুদার্ত মানুষকে খাদ্য দেওয়া।(২৫) দান করা।(২৬) অশ্লীল কথা না বলা, যারা বলে তাদেরকে বর্জন করা।(২৭) তাক্বদীরকে মেনে নেওয়া, এবং আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ থাকা।(২৮) আল্লাহর উপর ভরসা করা।(২৯) আল্লাহর উপর, পরকালের উপর বিশ্বাসকে দৃঢ় করা।(৩০) বিপদগ্রস্থ ও অসহায় মুসলিমদের জন্যে দুয়া করা।