Pages

রিজিক এবং বিবাহ কি লাওহে মাহফুজে লিখিত আছে?

প্রশ্নঃ (৬৩) রিজিক এবং বিবাহ কি লাওহে মাহফুজে লিখিত আছে?
উত্তরঃ আল্লাহ তাআ’লা যেদিন কলম সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মাখলুকাত সৃষ্টি হবে, সবই লাওহে মাহফূজে লিপিবদ্ধ আছে। আল্লাহ তাআ’লা কলম সৃষ্টি করে বললেন, লিখ। কলম বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি কি লিখব? আল্লাহ তাআ’লা বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সব লিখে ফেল। সে সময় কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হবে, কলম সব কিছুই লিখে ফেলল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ভ্রুন মাতৃগর্ভে চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ তাআ’লা একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। ফেরেশতা তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেন এবং লিখে দেন তার রিজিক, বয়স এবং তার কাজ অর্থাৎ সৌভাগ্যবান হবে না দুর্ভাগা হবে। রিজিক লিখা আছে এবং কিভাবে অর্জন করবে, তাও লিখা আছে। রিজিক অন্বেষণের সাথ সাথে রিজিক অন্বেষণের উপকরণও লিপিবদ্ধ আছে। আল্লাহ বলেনঃ
)هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمْ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِنْ رِزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ(
“তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব তোমরা তাতে বিচরণ কর এবং তার দেয়া রিজিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।” (সূরা মুলকঃ ১৫) রিজিক পাওয়ার এবং তা বৃদ্ধি হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হল, পিতা-মাতার সাথে সৎ ব্যবহার করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
)مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ(
“যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিজিক বাড়িয়ে দেয়া হোক এবং বয়স বাড়িয়ে দেয়া হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” রিজিক বৃদ্ধির আরো মাধ্যম হল তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
)وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ(
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ বের করে দিবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দান করবেন।” (সূরা তালাকঃ ২-৩) এমন বলা যাবে না যে, রিজিক যেহেতু নির্ধারিত আছে, সুতরাং আমি এর উপকরণ অনুসন্ধান করব না। এটা বোকামীর পরিচয়। বুদ্ধিমানের পরিচয় হল রিজিক এর জন্য এবং দ্বীন্তদুনিয়ার কল্যাণ অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালানো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
)الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ(
“বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের হিসাব নিল এবং পরকালের জন্য আমল করল। অক্ষম ও নির্বোধ সেই ব্যক্তি, যে নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে বসে থাকল।” রিজিক যেভাবে লিপিবদ্ধ আছে, বিবাহ করাও নির্ধারিত রয়েছে। এই পৃথিবীতে কে কার স্বামী বা স্ত্রী হবে, তাও নির্দিষ্ট রয়েছে। আসমানজমিনের কোন কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন নয়।

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নঃ শিরকের মূল অর্থ কি বলবেন, প্লিজ?
উত্তরঃ শিরক অর্থ অংশ স্থাপন করা। আল্লাহর যাত (সত্ত্বা), কাজ, আসমা (নাম) ও সিফাতগুলোতে (গুণ বা বৈশিষ্ট্যসমূহের) সাথে অন্য কাউকে সমান মনে করা বা সাব্যস্ত করা হচ্ছে শীরক। উদাহরণ - খ্রীস্টানরা ঈসা আঃ কে আল্লাহর পুত্র বলে (নাউযুবিল্লাহ), এইভাবে তারা ঈসা আঃ কে আল্লাহর যাতের সাথে সমান করে দিয়ে শিরক করেছে। অনেকে মুসলমান হয়েও নবী রাসুলদেরকে ও অলী আওলিয়াদেরকে আলেমুল গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানী বলে বিশ্বাস করে, এইভাবে তারা আল্লাহর আসমা ও সিফাতের সাথে শিরক করেছে কারণ গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানী একমাত্র আল্লাহ। অনেকে মনে করে আব্দুল কাদের জিলানী গাউসুল আযম, সে মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে এইজন্য তারা জিলানীর কাছে দুয়া করে। এইসবগুলো শিরকি কাজ কারণ এরা জিলানীকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়েছে।
প্রশ্নঃ কবরের কাছে গিয়ে সুরা ইয়াসীন পড়লে কবরের আযাব মাফ হবে, সত্যি?
উত্তরঃ যে এই কথা লিখেছে এবং যে প্রচার করে, এদের সবকয়টা মিথ্যুক। কবরের কাছে গিয়ে ক্বুরান তেলাওয়াত বা সুরা পড়া ভিত্তিহীন বেদাত। কবর জিয়ারত করতে গেলে তাদের জন্য দুয়া করতে হয়, কবরে গিয়ে ক্বুরান তেলাওয়াত করা যাবেনা কারণ মৃত ব্যক্তি শুনতে পারেনা।
প্রশ্নঃ কোন প্রানী( হালাল) যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম না নিয়ে যবেহ করলে কি তা হালাল হবে?
উত্তরঃ কোন মুসলমান যদি ভুলে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তাহলে সেটা হালাল হবে।
প্রশ্নঃ ধুমপান কী?
উত্তরঃ হারাম, ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ রহঃ সহ সমসাময়িক অনেক আলেমের এই ব্যপারে ফতোয়া আছে।
প্রশ্নঃ কাকঁড়া খাওয়া কি হারাম????
উত্তরঃ না হারাম নয়, চিংড়ী কাকড়া খাওয়া হালাল ব্যং খাওয়া হারাম।
যিনি প্রশ্ন করেছিলেন তিনি বেপর্দা ছবি দিয়ে রেখেছেন। আমাদের পেইজে বেপর্দা বা অশ্লীল ছবি দিয়ে কমেন্ট/মেসেজ করা নিষিদ্ধা। নারীদের বেপর্দা চলাফেরা করা মারাত্মক অন্যায়। এটা এতো বড় অন্যায় যে বেপর্দা নারীর কারণে তার পুরুষ গার্জিয়ান (বাবা/স্বামীরাও) জাহান্নামী হবে।
প্রশ্নঃ ৩/৪ রাকাত ফরজ নামাজে ১ রাকাত পেলে ঈমাম সালাম ফেরানোর পরে,বাকি ৩/২ রাকাতের ১ম রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে অন্য কনো সুরা পড়তে হবে কি না? (এখানে ঈমামের সাথে ১ রাকাত পেলাম ও ঈমাম সালাম ফেরানর পরে তাসাহুদের আগে যে রাকাত নিজে পরব) অবশ্য ই জামাতে নামাজের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছি
উত্তরঃ হ্যা, দাড়ানোর পরে ১ম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে অন্য সুরা মেলাতে হবে।

আহলে সুন্নত, শিয়া-সুন্নী, আহলে বায়ত

আহলে সুন্নত, শিয়া-সুন্নী, আহলে বায়ত:

১/ অনেক বলে, যারা শুনে শুনে মুসলমান হয় তাদেরকে সুন্নী‬ বলে, আর যার বুঝে শুনে ইসলাম পালন করে তারা হচ্ছে শিয়া‬, এটা একেবারে বাজে কথা যা অনেকেই না বুঝে বলে থাকে। প্রকৃতপক্ষে সুন্নীরাই হচ্ছে আসল মুসলিম যারা ক্বুরান ও সুন্নাহ মেনে চলে, আর শিয়ারা হচ্ছে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক এক ইয়াহুদী মুনাফেকের ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারী, যাদের জন্মই হয়েছিল খিলাফত বা নেতৃত্ব নিয়ে মুসলমানদের মাঝে যুদ্ধ বাধিয়ে তাদেরকে দুর্বল করা।
২/ আহলে সুন্নত বা সুন্নিরাই হচ্ছে একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত দল, আর শিয়ারা হচ্ছে ৭২টা বেদাতী জাহান্নামী দলের একটা।
৩/ আহলে সুন্নত, শিয়া-সুন্নী, আহলে বায়ত কি?
বিসমিল্লাহ, ওয়ালহা'মদুলিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ'লা রাসূলিল্লাহ। আম্মা বা'দ।

আহলে সুন্নাহ কি?

“আহলে সুন্নাহ” – অর্থ হচ্ছে সুন্নাহর অনুসরণকারী। যারা শিরক-বিদআত মুক্ত থেকে পরিপূর্ণভাবে সত্যিকার অর্থে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নাহর অনুসরণ করে, ঠিক সেইভাবে যেইভাবে সাহাবারা করেছিলেন তারাই হচ্ছে প্রকৃত আহলে সুন্নাহ, যাদেরকে সংক্ষেপে অনেক সময় “সুন্নী” বলা হয়।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন - এই উম্মত ৭৩টা দলে ভাগ হবে - যার মধ্যে ৭২টা দলি জাহান্নামে যাবে। আর একটা মাত্র দল জান্নাতে যাবে। নাজাত প্রাপ্ত সেই দলটা হলো - যারা মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবারা যে তরীকার উপরে ছিলেন সেটাকে অনুসরণ করবে – শুধু মাত্র তারাই নাজাত পাবে। তাবেয়ীদের যুগ থেকে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের দল বের হয়, যেমন খারেজী, শিয়া, মুহতাজিলা ইত্যাদি। সেই ভ্রান্ত দলগুলো থেকে সত্যিকারের নাজাতপ্রাপ্ত দলকে পরিচয় দেওয়ার জন্যে তাবেয়ীদের যুগ থেকেই “আহলে সুন্নাহ” বলে পরিচয় দেওয়া শুরু হয়। যেমন - তাবে'ঈ ইমাম ইবনু সীরীন র'হিমাহুল্লাহ বলেনঃ
"মানুষেরা আগে হাদীসের সনদের ব্যাপারে জিগ্যেস করতোনা। কিন্তু যখন ফিতনাহ এসে পড়ল, তখন তারা বলা শুরু করলেন, তোমাদের হাদীসের রাবী বা বর্ণনাকারীর নাম বল। এরপর কেবল "আহলুস সুন্নাহ" ব্যক্তিদের হাদীস গ্রহণ করা হত আর "আহলুল বিদ'আ হলে গ্রহণ করা হতনা।"
সহীহ মুসলিম, মুক্বাদ্দিমাহ অধ্যায়।
উল্লেখ্য, কেউ নিজেকে আহলে সুন্নাহ দাবী করলেই সেসুন্নী হয়ে যায়না। ভারত বাংলাদেশে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত বা সুন্নী পরিচয় দেয় এমন কিছু মানুষ আছে (আসলে তারা রিজভী/ব্রেলভী) – এরা হচ্ছে খালেস কবরপূজারী, পীরপূজারী। আজমীর, শাহজালাল, বায়েজীদ বোস্তামী ওয়ালা, মাইজভান্ডারী, দেওয়ানবাগী,কুতুববাগী - এরাই হলো সেই এই দলের নেতা। এদের ঈমান আছে কিনা সেটাই আলোচনার বিষয়।
আরো কিছু দল আছে যারা নিজেদেরকে আহলে সুন্নাহ বলে পরিচয় দেয় – কিন্তু তাদের মাঝেও সুন্নাহ থেকে দূরত্ব দেখা যায়। বহুল প্রচলিত এমন দুটি দল হলো – তাবলিগ জামাত ও জামাতে ইসলামী। এরা মুসলিম কিন্তু এদের মাঝে অনেক ভুল-ভ্রান্তি আছে যা সংশোধন করে নেওয়া তাদের জন্য "ওয়াজিব"।
তাই শুধু আহলে সুন্নাহ নাম দাবী করলেই হবেনা। ঈমান ও আমলে কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীদের মতো হলেই প্রকৃত আহলে সুন্নাহ হওয়া যাবে।

আহলে বায়ত কি?

“আহলে বায়ত” অর্থ হলো ঘরের বাসিন্দা বা যারা ঘরে থাকে, আহল বা পরিবারের লোকজন। এখানে আহলে বায়ত বলতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পরিবারের লোকজন, তাঁর সেই আত্মীয়দেরকে বোঝানো হয়েছে যাদের জন্য সাদাকাহ খাওয়া হারাম ছিলো। তারা হচ্ছেন, খাদিজাহ (রাঃ), আলী (রাঃ), আয়িশাহ (রাঃ), ফাতিমাহ (রাঃ), হাসান(রাঃ), হুসাইন (রাঃ) ও অন্যান্যরা। কুরআন ও হাদীসে “আহলে বায়তদের” অনেক মর্যাদার কথাবলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, “শিয়া” নামক ভ্রান্ত একটা দল দাবী করে তারা আহলে বায়তের অনুসারী, বিশেষ করে তারা আলী (রাঃ) এর অনুসারী হওয়ার দাবী করে। এটা ডাহা মিথ্যা কথা, যেমন মিথ্যা কথা আমাদের দেশের কবরপূজারীরা করে থাকে নিজেদের আহলে সুন্নাহ বলে পরিচয় দিয়ে। শিয়া নামক এই দল যারা নিজদের আহলে বায়তের অনুসারী বলে দাবী করে – এরা আসলে আহলে বায়তের চরম শত্রু। হাসান ও হুসাইন (রাঃ) এর হত্যার সাথে এদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিলো। এরা মা আয়িশাহ (রাঃ) এর নামে জঘন্য অপবাদ দেয় (নাউযুবিল্লাহ) ।
আর আস্তে আস্তে পরবর্তীতে আহলে বায়তের অনুসারী হওয়ার দাবীদার এই শিয়াদের মাঝে (এরা আসলে ইয়াহুদী মুনাফেক আব্দুল্লাহ ইবনে সাবাহর অনুসারী) মারাত্মক রকমের শিরকি, কুফুরী আকীদা ঢুকেছে। আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশে কবরপূজারীদের বাপ-মা আসলে এই শিয়ারা। অনেক শিয়াদের আকীদা ইয়াহুদী, খ্রীস্টানদের চেয়ে জঘন্য। আর ইতিহাস স্বাক্ষী, শিয়ারা আহলে সুন্নাহর সাথে ইয়াহুদীদের থেকে বেশি শত্রুতা করে আসছে, আজ পর্যন্ত। সর্বশেষ, সিরিয়ার ঘটনা তার একটা প্রমান।

দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দোআ

 ঋণ মুক্তির জন্য দো‘আ
«اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ».
(আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আগনিনী বিফাদ্বলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক)।
“হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার হালাল দ্বারা পরিতুষ্ট করে আপনার হারাম থেকে ফিরিয়ে রাখুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আপনি ছাড়া অন্য সকলের থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিন।”[ তিরমিযী ৫/৫৬০, নং ৩৫৬৩। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৮০।]
গ্রন্থের বিবরণঃ গ্রন্থঃ হিসনুল মুসলিম | অধ্যায়ঃ কুরআন-সুন্নাহ্‌র যিকর ও দু'আ | রচয়িতা / সঙ্কলকঃ ড. সাঈদ ইব্‌ন আলী ইব্‌ন ওয়াহফ আল-ক্বাহত্বানী

হতাশা ও দুর্দশা থেকে মুক্তির বিশেষ দোআ:
- «لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظّالِمِينَ».
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায-যা-লিমীন।
আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র-মহান, নিশ্চয় আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত।
[তিরমিযী ৫/৫২৯, নং ৩৫০৫; হাকেম এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন, যাহাবী সেটা সমর্থন করেছেন, ১/৫০৫।  সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৬৮।]

«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ».
আল্লা-হুম্মা ইন্নি আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালা‘ইদ দ্বাইনে ওয়া গালাবাতির রিজা-লি
হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।
[বুখারী, ৭/১৫৮, নং ২৮৯৩; সেখানে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দোআটি বেশি বেশি করতেন। আরও দেখুন, বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১৭৩; আরও দেখুন যা পৃষ্ঠায় ১৩৭ নং এ বর্ণিত হবে।]

দুটি বেদাতঃ “ওমরী কাজা” ও “টাকা দিয়ে নামাযের কাফফারা”

দুটি বেদাতঃ “ওমরী কাজা” ও “টাকা দিয়ে নামাযের কাফফারা”
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা জীবনের কোনো এক সময় বেনামাযী থেকে গেছেন। আল্লাহ যখন এই কুফুরী থেকে তাদেরকে হেদায়েত করেন, নামায পড়ার মতো যথেষ্ঠ বুঝ দান করেন শয়তান তখন আবার তাদেরকে বেনামাযী বানানোর চেষ্টা করে। এই চেষ্টার বিভিন্ন সুরত আছে, ধর্মীয় ও অধর্মীয়। ধর্মের বাইরে বিভিন্ন ভাবে গান, বাজনা, খেলা ধূলা, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করা, নামায পড়তে যে ধৈর্য ধরতে হয় বিভিন্ন ওসওয়াসা দিয়ে অধৈর্য করে দেওয়া – এইগুলা হলো অধর্মীয় উপায়ে শয়তানের মানুষকে বেনামাযী বানানোর চেষ্টা। আর ধর্মীয় উপায়ে হলো, মসজিদে গেলে মূর্খরা হাসি ঠাট্টা করবে, খাটো নজরে দেখবে, আর বেনামাযী যারা ওরা বলবে বড় হুজুর হয়েছো, জামাত শিবির নাকি ইত্যাদি উল্টা পালটা কথা বলে মনে কষ্ট দিবে।
আরেকটা পদ্ধতি হলো নামাযকে কঠিন বোঝা বানিয়ে দেওয়া, আমাদের দেশের নামধারী মুফতিদের ভ্রান্ত ফতোয়া, উমরী কাজার পদ্ধতি দিয়ে।

উমরী কাজা হচ্ছে, সাবালক হওয়ার পর বছরের পর বছর ধরে তার যে নামাযগুলো মিস হয়েছে, সেগুলো পড়তে বলা। আর তারা একটা নিয়ম বানিয়েছে, প্রত্যেক ওয়ক্তের সাথে এক ওয়াক্ত অতিরিক্ত নামায পড়ার জন্য, অর্থাত যোহরে চার ওয়াক্ত ফরয পড়ে সে আরো চার রাকাত ফরয পড়বে কাযা হিসেবে – ৪ রাকাত ফরযের জায়গায় ৮ রাকাত ফরয বানিয়ে দিয়েছে – এভাবে সে যতবছর নামায কাযা করেছে তত বছর কন্টিনিউ করবে।
এইরকম “ওমরী কাজার” নামায কুরআন হাদীসের কোথাও বলা নাই।

হাদীস অনুযায়ী কেউ এক ওয়াক্ত, দুই ওয়াক্ত এভাবে সর্বোচ্চ ৫ ওয়াক্ত নামায ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় ছেড়ে দিলে কাযা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু যে একেবারেই বেনামাযী ছিলো দিনের পর দিন সে তোওবা করে নিবে তার কুফুরী থেকে।
“ওমরী কাজা” এই নামাযতো দূরের কথা এই শব্দই নাই কুরান বা হাদীসে।
যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে নামায ছেড়ে দেয় তার ইমান থাকেনা (আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)।
আর যার ইমান থাকেনা তার আবার নামায কি?
অতএব, যে অতীতে এইরকম নামায ছেড়েছে – সে লজ্জিত হয়ে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তোওবা করবে, ভবিষ্যতে আর করবেনা এমন প্রতিজ্ঞা করবে – এটাই হচ্ছে তার নামায ছাড়ার জন্য করণীয় কাজ। আর চেষ্টা করবেন নিয়মিত নফল সুন্নত নামায আদায় করার জন্য।
যে কারণে যারা আগে বেনামাযী ছিলো তারা উমুরী কাজা পড়বেন নাঃ
১. শরীয়তে দলীল ছাড়া কোনো আমল গ্রহনযোগ্য নয়। অনিচ্ছাকৃত সর্বোচ্চ ৫ ওয়াক্ত নামায কাজা পড়ার কথা হাদীসে আছে - সেটা দলীল সম্মত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছাকৃত নামায কাযা পড়ার কোনো দলীল নাই।

২. যে নামাযে পড়েনা তারতো ঈমানই নাই - তার আবার কিসের নামায? কাফেরের উপর আগে ঈমান আনা ফরয, ঈমান আনলে তার উপর নামায পড়া ফরয হয়।

৩. এইজন্য সঠিক মত হচ্ছে বেনামাযী তোওবা করবে, অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত মাফ চাইবে। আর নফল সুন্নত নামাযের পাবন্দী হবে।

৪. কিন্তু উমুরী কাজা বা প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের সাথে অতীতের একদিনের নামায কাযা পড়ার সিস্টেম - দলীল বহির্ভুত একটা নব আবিষ্কৃত বেদাত। এটা থেকে দূরে থাকাই কর্তব্য।

দ্বিতীয়টা বেদাত হচ্ছে, অনেকে মৃত্যুর পূর্বে এতো অসুস্থ থাকেন যে নামায পড়া সম্ভব হয়না। হয়তোবা অজ্ঞান হয়ে থাকে বা শারিরীক অথবা মানসিক ক্ষমতা থাকেনা নামায পড়ার মতো। তখন হয়তোবা কয়েকদিন নামায কাজা হয়, তখন এই অজ্ঞ মুফতিরা নামায না পড়ার জন্য কাফফারা স্বরূপ টাকা দাবী করে বসে। অনেক সময় গরীব মানুষের কাছ অনেক বড় অংকের টাকা দাবী করে বসে।

এই ধরণের টাকা কাফফারা দেওয়ার পদ্ধতি কুরআন হাদীসে কোথাও নেই।

যার পক্ষে নামায পড়া সম্ভব হচ্ছেনা তার উপরেতো নামাযই ফরয না। তবে আত্মীয় স্বজনরা খেয়াল রাখবেন, রোগীদের যখন হুশ হবে, বা সম্ভব হবে তখন শুধু মাত্র ঐ ওয়াক্তের অন্তত ফরয নামাযটা যেনো পড়ে নেন – ওযু সম্ভব না হলে তায়াম্মুম করে, দাঁড়িয়ে না পারলে বসে, বসে না পারলে শুয়ে অথবা ইশারায়।
আয় আমাদের রব্ব, আমাদের জন্য নামায কায়েম করা সহজ করে দিন এবং আমাদেরকে নামাযী সালেহীন অবস্থায় মৃত্যুদান করুন, আমীন।