সালাতে মন স্থির রাখার উপায় কি?
১) সালাতের প্রস্তুতি নিয়ে শান্ত মনে আগেভাগে মসজিদে আসা।
২) সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা।
আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ”সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ কর। কেননা, মানুষ যখন সালাতে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তখন সে তার সালাতকে সুন্দর ভাবে আদায় করতে সক্ষম হয়। ”
(সনদ হাসান, সিলসিলা সহীহাহ/২৮৩৯)
৩) “আমি আল্লাহকে দেখছি বা তিনি আমাকে দেখছেন” এই অনুভূতি মনে
জাগ্রত রাখা।
৪) এ কথা স্মরণ করা যে, আল্লাহ তায়ালা সালাতে বান্দার প্রতিউত্তর করে থাকেন।
৫) এ কথা স্মরণ রাখা যে, সালাতে মূলত: আল্লাহর সাথে চুপিসারে কথা বলা হয়।
৬) সালাতে পঠিত দুয়া-তাসবীহ ও সূরা-কিরাতের অর্থ অনুধাবন করা।
৭) খাবার উপস্থিত রেখে বা পেশা- পায়খানা চেপে সালাত আদায় না করা। কেননা, এতে মনোযোগ বিঘ্নিত হয়।
৮) সেজদায় বেশী বেশী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা।
রাসূল সা. বলেছন, বান্দা যখন সিজদায় থাকে তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে সন্নিকটে থাকে। অত:এব, তোমরা (সিজদা অবস্থায়) অধিক পরিমানে দুয়া কর।” (সহীহ মুসলিম) তবে একাকী সালাত, নফল, সুন্নত, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সিজদায় অধিক পরিমাণে দুয়া করা ভালো। কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দুয়া সমূহ অধিক হারে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া নিজের মাতৃভাষায়ও আল্লাহর নিকট নিজের কামনা-বাসনা তুলে ধরে দুয়া
করা যাবে।
৯) হাই আসলে মুখে হাত দিয়ে যথা সম্ভব তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা।
১০) সিজদার স্থানে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা এবং অন্য দিকে দৃষ্টিপাত না করা।
১১) ভয়-ভীতি ও ধীর স্থিরতা সহকারে সালাত আদায় করা।
১২) শয়তানের উপস্থিতি টের পেলে চুপি স্বরে আউযুবিল্লাহ.. পাঠ করা ও বাম দিকে অতি হালকা ভাবে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করা।
আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসূল, শয়তান আমার সালাত ও কেরাআতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে দেয়। তিনি বললেন: এটি হল শয়তান। যার নাম খিনযাব। তুমি যদি এমনটি অনুভব কর, তবে “আউযু বিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম
পাঠ কর এবং তোমার বাম পাশে তিনবার হালকা ভাবে থুথু নিক্ষেপ কর।” তিনি বলেন, আমি এমনটি করায় আল্লাহ তায়ালা আমার এ সমস্যা দূর করে দিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম)
উল্লেখ্য যে, শরীর বা কাঁধ বাম দিকে ঘুরার প্রয়োজন নাই। কেবল মাথাটা সামান্য বাম দিকে নিয়ে খুব হালকা ভাবে থুথু ফেলার মত করবে। (এতে মুখ থেকে পানি নির্গত হবে না।) এমনটি করলে শয়তান লাঞ্ছিত অবস্থায় পলায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল,
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব
বিদআতের ভয়াবহতা এবং আমাদের সমাজের চিত্র
বিদআতের ভয়াবহতা এবং আমাদের সমাজের চিত্র
আবদুল্লাহিল হাদী বিন আবদুল জলীল
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
"যে ব্যক্তি এমন আমল করল যে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই তা পরিত্যাজ্য।" (সহীহ মুসলিম)
ভূমিকাঃ সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ, পৃথিবীর দ্বীতিয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ নানা ধরণের সমস্যায় জর্জরিত। তম্মধ্যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা হল বিদআত সমস্যা। বর্তমানে আমরা অজ্ঞতা বা বিভিন্ন কারণে ধর্মের নামে নানা ধরণের বিদআতী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছি। যার কারণে আমরা যেন ধীরে ধীরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহ থেকে দূরে সরে পড়ছি। তাই মুসলিম ভাই-বোনদেরকে এ সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। এতে আমি বিদআতের সংজ্ঞা, বিভক্তি, কি ভাবে বিদআত শুরু হয় এবং বিদআত করার কি ভয়াবহ পরিণতি ইত্যাদি যথাসম্ভব উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ সহকারে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথের উপর অটুট থেকে জীবন পরিচালনা করার তওফীক দান করুন।
বিদআতের সংজ্ঞাঃ বিদআতের আবিধানিক অর্থ হল, নব আবিস্কৃত ও নব উদ্ভাবন। পারিভাষিক অর্থে দ্বীনের মধ্যে নতুন কোন কিছু সংযোজন করার নাম বিদআত।
ইমাম নওবী (রহঃ) বিদআত শব্দের অর্থ লিখেছেন, “(ছোওয়াবের আশায়) এমন সব কাজ করা বিদআত যার কোন পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই।”
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) লিখেছেন, “শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত হল, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে ছিল না এমন নীতি ও পথ কে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে প্রবর্র্তন করা।”
অন্য ভাষায় বলতে গেলে, প্রত্যেক সে কাজকে বিদআত বলা হয় যা সোয়াব ও পূণ্যের নিয়তে করা হয় কিন্তু শরীয়তে তার কোন ভিত্তি বা প্রমাণ পাওয়া যায়না। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে করেননি এবং কাউকে তা করার অনুমতি ও প্রদান করেননি। এরূপ আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণ যোগ্য হয় না। (বুখারী ও মুসলিম)
দ্বীনের সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকারক বিষয় হলো বিদআতঃ যেহেতু বিদআতকার্য পূণ্য ও ছাওয়াবের কাজ মনে করা হয় সেহেতু বিদআতী ব্যক্তি তা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারেনা। অথচ অন্যান্য পাপসমূহে বোধশক্তি থাকে। তাই আশা করা যায় যে, পাপী কোন না কোন দিন আপন পাপে লজ্জিত হয়ে নিশ্চয় তওবা-ইস্তেগফার করবে। এ জন্যই ছুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন, “শয়তান পাপের পরিবর্তে বিদআতকেই খুবই ভালোবাসে।”
বিদআতী কাজ যেহেতু সাওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয় সেহেতু বিদআত থেকে তাওবা করার চিন্তা ও করা হয় না। তাই বিদআতীর মৌলিক আকীদা সংশোধন হওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা।
শরীয়তের দৃষ্টিতে দুটি পাপ এমন আছে যেগুলো না ছাড়া পর্যন্ত কোন আমল কবুল হয়না । পাপ দুটি হল, শিরক ও বিদআত।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আল্লাহ তাআলা বান্দার পাপ মাফ করতে থাকেন যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালার মাঝে পর্দা হয়। ছাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, পর্দা কী? তিনি বললেন, “পর্দা হলো, মানুষ শিরক অবস্থায় মৃত্যু বরণ করা।” (মুসনাদ আহমাদ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আল্লাহ তায়ালা বিদআতীর তওবা গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ না বিদআত ছেড়ে দেয়।” (তাবারানী)
কিয়ামতের দিন যখন রাসূল আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাউযে কাওসারে আসবেন যাদেরকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উম্মত মনে করবেন কিন্তু ফেরেশ্তাগণ বলবেন, এরা হলো সে সকল ব্যক্তি যারা আপনার পরে বিদআত শরু করে দিয়েছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বলবেন, “সুহকান, সুহকান” “দূর হয়ে যাও, দূর হয়ে যাও সে সকল লোক যারা আমার পরে দ্বীনকে পরিবর্তন করেছ।” (বুখারী ও মুসলিম)
কিয়ামতের দিন কিছু লোক এমন হবে যারা আমল করে ক্লান্ত হয়ে গেছে কিন্তু জলন্ত আগুনে তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে। (সূরা গাশিয়া ৩-৪)
ইসলাম প্রচারের ৭২টি পদ্ধতি
ইসলাম প্রচারের ৭২টি পদ্ধতি
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি দ্বীনের পথে দাওয়াত দান কারীর সর্বোত্তম প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন:
وَمَنْ أحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعاَ إلىَ اللهِ وَعَمِلَ صاَلِحاً وَقاَلَ إنَّنِيْ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ
“ঐ ব্যক্তির চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে যে আল্লাহর পথে আহবান করে এবং সৎ আমল করে। আর বলে নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্গত।” (সূরা ফুছ্ছিলাত: ৩৩) দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক আমাদের সর্বোত্তম আদর্শ ও প্রিয় নবী ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যিনি এরশাদ করেছেন: ‘যে ব্যক্তি সৎপথে আহবান করে, সে তার অনুসরণকারীর অনুরূপ সওয়াব পাবে।’ (মুসলিম)
অত:পর নিশ্চয় মুসলিম ব্যক্তি একথা ভাল করেই জানে যে, আল্লাহ তাকে দ্বীন দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং তা আমানত হিসেবে তাকে প্রদান করেছেন। নিশ্চয় তিনি তাকে সেই দ্বীন ও আমানত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন
(وَإنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ، وَسَوْفَ تُسْأَلُوْنَ)
নিশ্চয় এই কুরআন আপনার ও আপনার কওমের লোকদের জন্য উপদেশ স্বরূপ। অচিরেই সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হতে হবে।” (সূরা যুখরুফ: ৪৪)
একজন মুসলিম ব্যক্তি অত্যন্ত খুশী হয় যখন সে এই আমানতটি আদায় করত: অন্যদের আল্লাহর পথে হেদায়েতের মাধ্যম হয়।
(قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا، هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُوْنَ)
“বলুন! আল্লাহর অনুগ্রহ ও তার রহমতে তারা আনন্দ করুক। ইহাই তাদের জন্য (সম্পদ) জমা করার চেয়ে উত্তম।” (সূরা ইউনুস: ৫৮)
বর্তমান কালে আল্লাহ প্রদত্ত অনুগ্রহের অন্যতম হল: দাওয়াতের মাধ্যম, উপকরণ ও পথের বিভিন্নতা। যাতে করে প্রত্যেকেই তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং তার মর্যাদা ও মহান সওয়াব অর্জন করতে পারে। দাওয়াত প্রদানকারী লক্ষ্য করবে কোন উপকরণটি মাদঊর (দাওয়াত কৃত ব্যক্তি) জন্য উপযুক্ত হবে- সেই সাথে ভিন্ন ভিন্ন ও নতুন নতুন উপকরণের খেয়াল রাখবে। যেমনটি নূহ (আ:) এবং অন্যান্য নবীদের পদ্ধতি ছিল। দাঈর উচিত, যাদেরকে সে দাওয়াত দিবে তাদের স্তর ও তাদের অবস্থান সমূহের খিয়াল রাখবে। যাতে করে দাওয়াত সবাইকে শামিল করে। যাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয় তারা মূলত: পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, চাকর-বাকর, সেবক-সেবিকা, ভ্রমণকারী, প্রতিবেশী ও সাথী প্রভৃতি। কিছু স্থান রয়েছে যা দাওয়াতের ক্ষেত্র হিসাবে গণ্য করা যায়। যেমন: মসজিদ, ঈদগাহ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, জেলখানা, পার্ক, সমুদ্র সৈকত, বিভিন্ন বৈঠক, খেলার মাঠ, পিকনিক স্পট, হজ্জের তাঁবু, হোটেল, আবাসিক এলাকা, বিমান বন্দর, বিবাহ অনুষ্ঠান কেন্দ্র (কমিউনিটি সেন্টার), বাজার, সেলুন, যানবাহনের বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম। পাসপোর্ট অফিস, লেবার কোর্ট, দূতাবাস, বাণিজ্যিক কেন্দ্র সমূহ… ইত্যাদি। আর দাওয়াতী মাধ্যম যেহেতু ইজতেহাদী বিষয় কাজেই উচিত হবে অপর ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়া। নিজে থেকে নতুন কিছু তৈরি করা এবং এ মাধ্যমকে আরও উন্নত করা। সাধ্যানুযায়ী প্রত্যেকের দাওয়াতী কাজ করা উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাকে সঠিক পথের হেদায়েত দানকারী বানিয়ে দিন। (আমীন)
দাওয়াতের ৭২টি পদ্ধতি:
পরিবারের মাঝে দাওয়াত:
- পারিবারিক লাইব্রেরী: (লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পরিবারের সকল সদস্যের উপযোগী বই-ম্যাগাজিন, ক্যাসেট তাতে থাকে।)
- পারিবারিক দেয়ালিকা প্রকাশ: এতে বিভিন্ন ধরণের দাওয়াতী প্রবন্ধ, বিজ্ঞাপন থাকবে। তাতে নতুনত্ব থাকবে এবং পরিবারের সকল সদস্য তাতে শরীক হবে।
- পারিবারিক দরসের ব্যবস্থা: (এটা নির্দিষ্ট কোন কিতাব থেকে পাঠ দান হতে পারে বা কোন ক্যাসেট শ্রবণ বা কুরআন বা হাদীছ থেকে কিছু মুখস্থ করার মাধ্যমে হতে পারে।)
- পারিবারিক প্রতিযোগিতা: (পুরস্কার হিসেবে বোর্ডে বিজয়ীর নাম লিখবে অথবা ছোটখাটো পুরস্কার নির্ধারণ করবে)
- পারিবারিক পত্রিকা: (যদিও তা কোন ম্যাগাজিন বা পত্রিকা হতে বাছাই করা প্রবন্ধও হয়না কেন। এসব লিখনিতে পরিবারের সদস্যরা শরীক হবে।)
- পরিবারের সামনে সৎ আমল প্রকাশ করা: (যেমন: নামায, কুরআন তিলাওয়াত, ছদকা প্রভৃতি তাদেরকে দেখিয়ে করা যাতে করে তারা আপনার অনুসরণ করতে পারে এবং শিখতে পারে।)
মসজিদে দাওয়াত:
- মসজিদের পক্ষ থেকে ইসলামী দেয়ালিকা প্রকাশ করার ব্যবস্থা করা। এছাড়াও মসজিদ ভিত্তিক বিভিন্ন দাওয়াতী তৎপরতায় অংশ গ্রহন করা। যেমন: মসজিদ ভিত্তিক লাইব্রেরী, মসজিদ ভিত্তিক কুরআন হিফযের হালকা ইত্যাদি তৈরী করা।
- ইসলামী বা সাধারণ উপকারী বই-পুস্তক, ক্যাসেট ধার দেয়া বা দাতা মহল থেকে নিয়ে এসে অথবা ক্রয় করে এনে মসজিদে রাখা। (কুরআন সেলফে অন্যান্য বই-পুস্তক রাখা যেতে পারে বিশেষ করে কুরআনের তাফসীর বা তার অনুবাদ রাখা যেতে পারে।
- বিভিন্ন ইসলামিক আলোচনা সভা, ওয়াজ মাহফিল, দরস প্রভৃতির বিজ্ঞপ্তি মসজিদে মসজিদে পৌঁছিয়ে দেয়া বা প্রচার কার্যে অংশ গ্রহন করা।
10. কোন বক্তা বা আলোচককে মসজিদে দরস বা আলোচনার জন্য দাওয়াত করা।
11. এলাকার মসজিদ কমিটিকে সাথে নিয়ে সমাজ ভিত্তিক দাওয়াতী ও সামাজিক উন্নয়ন মূলক বিভিন্ন তৎপরতায় অংশ গ্রহন করা।
স্কুল/মাদরাসায় দাওয়াত:
12. স্কুল/মাদরাসার দেয়ালিকা বা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহন করা এবং বাইরের ইসলামী আলোচনা, দরস প্রভৃতির বিজ্ঞাপন ওখানে প্রকাশ করা।
13. ছাত্রদের মাঝে ইসলামী বা সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান করা।
14. ছাত্রদের প্রশ্ন বা অভিযোগ সমূহ একত্র করে বিশেষজ্ঞদের নিকট উপস্থাপন করা।
অন্যান্য দাওয়াতী মাধ্যম সমূহ:
15. সময়োপযোগী দাওয়াতী বক্তব্য বা বাণী সম্বলিত বিভিন্ন বোর্ড স্থাপন করা বা দেয়ালে লকটানোর ব্যবস্থা করা।
16. অভিনন্দন কার্ড, ঈদ কার্ড, বিভিন্ন বৈধ দৃশ্য সম্বলিত কার্ড পত্র যোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। (যাতে বিভিন্ন ধরণের দৃশ্য এবং সময়োপযোগী ভাল ভাল কথা থাকবে)
17. দাওয়াতী এলবাম তৈরী করা। যাতে থাকবে বিভিন্ন ধরণের হৃদয়গ্রাহী ছবি, প্রকৃতিক দৃশ্য এবং গঠনমূলক ও দিক নির্দেশনা মূলক কথা থাকবে।
18. বিবাহের দাওয়াত কার্ড বিতরণ করার সময় কার্ডটি ছোট-খাট একটি ভাল বইয়ের কভার হিসাবে ব্যবহার করা।
19. যে ব্যক্তিকে দাওয়াত দেয়া উদ্দেশ্য তাকে (যোগ্যতা অনুযায়ী) দাওয়াতী বিষয়ে লেখা কোন প্রবন্ধ বা বই ভাষা গত সম্পাদনা করার জন্য দেয়া এবং তাকে সেটা ছাপানো বা ফটোকপি করে বিতরণের দায়িত্ব দেয়া।
20. মোবাইল ফোন, ইমেইল প্রভৃতির মাধ্যমে (দীনী কোন অনুষ্ঠানের কথা বা ইসলামী আলোচনা প্রভৃতির কথা স্মরণ করিয়ে ) এবং দাওয়াতী চিঠি- পত্র দেয়া।
21. ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাওয়াতী কথা বলা। ইন্টারনেট প্রোগ্রামের মাধ্যমে দাওয়াহ বিষয়ক চ্যাটিং বা কথোপকথনে শরীক হওয়া।
22. দাওয়াতী কার্ড বা স্টিকার বিতরণ করা: যেমন সফর ও বাহনে উঠার দুয়া, বিভিন্ন সময়ের যিকর-আযকার। প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। (এর অন্যতম হল: কিবলা নির্দেশক স্টিকার বিভিন্ন হোটেল প্রভৃতিতে লাগানো। উহা সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিকে নামাযের কথা স্মরণ করাবে।
23. নামাযের ক্যালেন্ডার বের করা।
24. দাওয়াতী কর্মসূচী ও পাঠ্যসূচী সম্বলিত ডায়েরী ও খাতা প্রভৃতি দাওয়াতী কাজে ব্যবহার করা।
25. দাওয়াতী বিষয় সম্বলিত পকেট কার্ড তরী কর। (উহা বিক্রেতার নিকট রাখা যেতে পারে। যাতে করে সে তা ক্রেতাকে বিনামূলে উপহার দিতে পারে।
26. কয়েকটি পকেট কার্ড সম্বলিত দাওয়াতী ব্যাগ তৈরী করে তা বিতরণ করা। তাতে বিষয় ভিত্তিক বিভিন্ন বই-পুস্তক ও লিফলেট রাখা যায়।
27. কোন ব্যক্তিকে কোন ইসলামী পত্রিকার (নিজ অর্থে বা গ্রহকের নিকট অর্থ নিয়ে) গ্রাহক বানিয়ে দেয়া।
28. প্রয়োজনাতিরিক্ত ম্যাগাজিন, ইসলামী বই প্রভৃতি সংগ্রহ করে তা বিতরণ করা বা কারো নিকট পাঠানো।
29. খারাপ ক্যাসেট, খারাপ ম্যাগাজিন, মানুষের কাছ থেকে.. সেলুন প্রভৃতি থেকে উদ্ধার করে তার পরিবর্তে ভালমানের বক্তৃতার ক্যাসেট, ইসলামী ম্যাগাজিন দ্বারা পরিবর্তন করা।
30. দাওয়াতী চয়নিকা। কিছু বই, ক্যাসেট, ঘটনা বা প্রেক্ষাপট উপযোগী যেমন: হাজী, মুসাফির, আগন্তুক, অসুস্থ, ডাক্তার, বন্দী, নারী, শিশু, বর- কনে, ঈদ প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বই/ক্যাসেট প্রস্তুত করা।
31. বিদ্যুৎ, টেলিফোন, পানি প্রভৃতির বিলের সাথে দাওয়াতী প্রচারণা নির্দেশনা প্রকাশ করা।
32. ক্যালেন্ডার, পঞ্জিকা, ব্যবসায়িক প্লাস্টিক ব্যাগ, চাবির রিং, কলম প্রভৃতির মধ্যে দাওয়াতী বাক্য লিখা। এগুলো মানুষ খুব বেশী ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে এগুলো করা যায়। তাদেরকে উপযুক্ত বাক্য সমূহ যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।
33. শ্রেণী ভিত্তিক মানুষের জন্য দাওয়াতী পত্র তৈরি করা। (যেমন মসজিদের প্রতিবেশী, ডাক্তার, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক, পিতা-মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়িক, জেলের আসামী, মুসাফির … )
34. সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা বা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বা নির্দিষ্ট লোকদের জন্য প্রতিযোগিতার জন্য বই, ক্যাসেট প্রস্তুত করা বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। তা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হতে পারে। আর এর পুরস্কার দাওয়া সেন্টারে বা দাওয়াতী কোন অনুষ্ঠানে বিতরণ করতে হবে।
35. নিম্ন লিখিত বিষয় সমূহের উপর বই বা ক্যাসেট বা অনুষ্ঠান তৈরি করা: (যেমন- অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহনের কাহিনী, বা পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তির তওবার কাহিনীর উপর ভিত্তি করে, কবিতাগুচ্ছ, সাহিত্য, মনিষী চরিত, ভ্রমণ কাহিনী.. দুনিয়াবি বিষয়েও হতে পারে: যেমন- অফিস পরিচালনা, যোগাযোগ, সৃষ্টি জগত, মানুষের শরীর বিষয়ক- যাতে করে যারা সাধারণত: দীনী বই পড়তে চায় না এগুলোর মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছা সম্ভব হবে।
36. বিভিন্ন দাওয়াহ সেন্টারের সাথে যোগাযোগ রাখা, তাদের অফিস পরিদর্শন করা, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা, অন্যদেরকে তাদের পরিচয় ঠিকানা প্রদান করা।
37. দাঈর বা দাওয়া সেন্টারের কর্মকাণ্ডের উপর তাদের প্রশংসা করা। যাতে কারে তাদের ব্যাপারে মাদঊর আগ্রহ সৃষ্টি হয়, তারা সেখানে অংশ গ্রহণ করে।
38. দুআর মাধ্যমেও দাওয়াতী কাজ করা সম্ভব। যেমন বলবে, ‘আল্লাহর কাছে দুয়া করি তোমাকে তিনি জাহান্নাম থেকে দূরে রাখুন। তিনি আমাদেরকে জান্নাতের মাঝে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে অবস্থানের তাওফীক দিন। অথবা ছাত্রের জন্য দুআ করবে: দুআ করি আল্লাহ্ তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন।
39. কোন সফরে দাওয়াতের জন্য টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে বের হওয়া। এটি একটি সুযোগ তাকে সংশোধন করার হেদায়েত করার। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সফর খুবই উপকারী হয়ে থাকে।
40. ছালাতে উদাসীন ব্যক্তির সাথে আযানের মূহুর্তে দেখা করতে যাওয়া এবং তাকে সাথে করে মসজিদে নিয়ে আসা।
41. ইসলামী আলোচনা সভায় বা দরসে লোকজনকে সাথে করে নিয়ে আসা।
42. মাসিক খুতবা সমূহকে লিখিত আকারে প্রস্তুত করা। তারপর বিভিন্ন খতীবদের নিকট তা বিতরণ করা, যাতে করে তা থেকে উপকার লাভ করতে পারে।
43. মসজিদের ইমাম ও খতীবদের পরস্পরের মাঝে দাওয়াতী প্রোগ্রাম বিনিময়। যেমন দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করে এক ইমাম অন্য ইমামের মসজিদ নির্ধারণ করবে। ছালাত শেষ করেই কিছুক্ষণ ওয়াজ-নছীহত করবে। অথবা খতীবগণ মসজিদ পরিবর্তন করে একজনের স্থানে আরেকজন খুতবা প্রদান করতে পারে। এতে বিষয় বস্তু প্রস্তুত করার জন্য দাঈ বা খতীবগণকে বেশী বেগ পেতে হবে না। কেননা শুধু স্থান পরিবর্তন করে একই বিষয়ের উপর সে আলোচনা করা সুযোগ পাচ্ছে।
44. নামায শেষে মুছল্লীদের জন্য ইসলামী কিতাব পাঠের প্রোগ্রাম। এক্ষেত্রে ফতোয়া প্রভৃতি উপকারী কিতাব সমূহ সাথে রাখবে এবং বিভিন্ন কিতাবের জন্য নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে তার দরস দিবে। এ প্রোগ্রাম খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। ৭ থেকে ১০ বা ১২ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। যাতে করে মানুষের মাঝে ক্লান্তি না আসে আর ইলমের প্রসারও সংক্ষিপ্ত সময়ে হতে পারে।
45. সাধারণ পরিবহণ সমূহের মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ। পরিবহণের ড্রাইভার কন্টাক্টর হেলারদেরকে প্রয়োজনীয় বই, ক্যাসেট, লিফলেট, উপযুক্ত দাওয়াতী উপহার সমূহ যথা সময়ে সরবরাহ করতে হবে। এধরণের সহযোগিতা কারী পরিবহণ শ্রমিক/মালিকদেরকে কৃতজ্ঞতা সার্টিফিকেটও প্রদান করা যেতে পারে।
46. রাস্তার ধারে দাওয়াতী বোর্ড স্থাপন।
47. শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারণ কৃত চল চিত্র স্ক্রিন (টিভি পর্দা) ব্যবহার করা এবং সেখানে আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে দাওয়াতী কাজের আঞ্জাম দেয়া।
48. ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান সমূহকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা। যাতে করে তাদের মাধ্যমে দাওয়াতী বিষয় সমূহ প্রর্দশন করা সম্ভব হয়।
49. দাওয়াতী টেলিফোন। যেমন অফিসের টেলিফোন সেটে কোন দাওয়াতী বিষয় রেকর্ড করে রাখা। উক্ত নম্বরে কেউ টেলিফোন করলেই সে তা শুনতে পাবে। অথবা অপেক্ষা করার জন্য যে সময়টুকু ব্যয় হবে তা কাজে লাগানোর জন্য সেক্ষেত্রেও কিছু দাওয়াতী বিষয় রেকর্ড করে রাখা যেতে পারে বা কোন ইসলামী রেডিও সেন্টারের সাথে ফোনের সংযোগ রাখা যেতে পারে। অথবা কোন আলোচনা ও দরস টেলিফোনের মাধ্যমে অফিসে প্রচার করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অথবা প্রশ্ন, ফতোয়া, পরামর্শ.. প্রভৃতি জিজ্ঞাসা করার জন্য টেলিফোন ব্যবহার করা যেতে পারে।
50. সাধারণ ডাক বা ইমেইলের মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ করা। এর উদ্দেশ্য হবে কোন মুসলিমকে নছীহত করা বা কোন নওমুসলিমকে শিক্ষা প্রদান করা বা কোন অমুসলিমকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া। (তাদের সাথে সাধারণ পরিচিতির মাধ্যমে বা প্রচার মাধ্যমের দ্বারা তাদের ঠিকানা সংগ্রহ করা যেতে পারে।) আপনার আশেপাশে যারা দূর এলাকা থেকে এসেছে তাদের মাধ্যমে প্রথমে শুরু করবেন। সেই প্রবাসীর চিঠির সাথে একটি দাওয়াতী চিঠিও দিয়ে দিবেন।
51. বর্তমানে মোবাইলের যুগে মোবাইলের মাধ্যমে সামান্য অর্থ খরচ করে দাওয়তী কাজ করা যায়। কোন বিষয়ে সুন্দর একটি এসএমএস একজন মানুষের বন্ধ দরজাকে খুলে দিতে পারে।
52. আরবী ভাষা শিক্ষা দান প্রোগ্রাম। বিভিন্ন কোর্স অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বা ক্যাসেট, বই, লিফলেট ইত্যাদি মাধ্যমে এ কাজ করা যেতে পারে। এ সমস্ত মাধ্যমে দাওয়াতী জন্য টার্গেটকৃত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় বিষয় সমূহ সংশ্লিষ্ট করা। যেমন ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং বা ব্যবসা.. প্রভৃতি সংক্রান্ত শব্দ সমূহ।
53. বিভিন্ন ইসলামী কোর্স। (যেমন, দাওয়াতের পদ্ধতি, বক্তৃতা প্রশিক্ষণ, ইমামতী প্রশিক্ষণ, সন্তান লালন-পালন পদ্ধতি… ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে কোর্সের আয়োজন করা।
54. উন্মুক্ত দাওয়াতী দিবস। সেখানে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। এতে নারীদেরকেও শামিল করা যেতে পারে।
55. মাসিক দাওয়াতী বিষয় বস্তু। তা নির্দিষ্ট করে লিফলেট বা বাণী হিসেবে ছাপিয়ে মসজিদ, মাদরাসা ও স্কুল সমূহে.. বিতরণ করা হবে বা লটকিয়ে দেয়া হবে। যাতে করে বিষয়টি মাসব্যাপী মানুষের আলোচনা-পর্যালোচনার কেন্দ্র বিন্দু হতে পারে।
56. এলাকায় অনুষ্ঠিত সুনির্দিষ্ট দরস সমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত করা। তাতে দরসের বিষয় বস্তু, সময়, স্থান ও আলোচকের নাম উল্লেখ থাকবে থাকবে।
57. ওলামায়ে কেরাম, দাঈ, দাওয়াতী বা ইসলামী সেন্টার সমূহ, শরঈ বিষয়ে পরামর্শ দাতা ব্যক্তি প্রভৃতির তালিকা প্রকাশ করা।
58. দীনী সাময়িক পত্রিকা সমূহ, ইসলামী রেকর্ডিং সেন্টার সমূহ, ইন্টারনেটের ভাল ওয়েব সাইট সমূহ.. প্রভৃতির তালিকা প্রকাশ করা।
59. দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে ‘পর্যটন ইনডেক্স’ তৈরী। (এতে থাকবে বিভিন্ন শহর বা দেশের প্রসিদ্ধ দাওয়া সেন্টার, লাইব্রেরী, ইসলামী রেকর্ডিং সেন্টার, বড় বড় জামে মসজিদ, সেখানকার প্রসিদ্ধ আলেমদের ঠিকানা… এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।)
60. লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করে জন সাধারণের পড়ার জন্য উন্মুক্ত করা।
61. ইসলামী বই, ক্যাসেট, সিডি ইত্যাদি প্রদর্শনীর আয়োজন করা।
62. ইসলামী বই-পুস্তক ও নিদর্শন সমূহের উপর প্রদর্শনীর আয়োজন করা এবং বিভিন্ন ইসলামী মেলা-প্রদর্শনী সমূহে অংশ গ্রহন করা।
63. দাওয়াতী উপকরণ সমূহের জন্য প্রদর্শণীর আয়োজন করা। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীগণ উপকৃত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত ও পরামর্শের মাধ্যমে সে প্রদর্শণীর মানোন্নয়ন করা।
64. দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে ইসলামী সাংস্কৃতিক তাঁবু প্রতিষ্ঠা করা।
65. দাওয়াতী কাজের উদ্দেশ্যে কোন দর্শনীয় স্থানে শিক্ষা সফরের আয়োজন করা।
66. রমাযান মাসে দাওয়াতী ইফতার মাহফিল।
67. হজ্জ-ওমরা প্রশিক্ষণ কোর্স।
68. দাওয়াতী গাড়ি। গাড়ির বিভিন্ন সাইডে প্রয়োজনীয় দাওয়াতী কথা লিখা থাকবে। গাড়িতে প্রয়োজনীয় দাওয়াতী সরঞ্জামাদি থাকবে। ব্যাপক লোক সমাগমের স্থানে গাড়ি গিয়ে পরিবেশ অনুযায়ী ক্যাসেট বা ভিডিও চালাবে, মানুষকে বই, ক্যাসেট, লিফলেট ইত্যাদি বিনামূল্যে বিতরণ করবে বা বিক্রয় করবে।
69. সাধারণ বা ইলেকট্রনিক বোর্ড তৈরি করা। তারপর শহরের উল্লেখযোগ্য স্থানে তা স্থাপন করে বিভিন্ন উপকারী বাণী, দাওয়াতী ঘোষণা বা সংবাদ সমূহ প্রচার করা।
70. দাওয়াহ অফিসের পক্ষ থেকে ক্রীড়া টিম প্রস্তুত করা। (সেখানে বিভিন্ন দাওয়াতী অনুষ্ঠান বা বই/ ক্যাসেট/ লিফলেট ব্যবস্থা রাখা)
71. ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা বা ফ্রি প্রিসকেপশনের ব্যবস্থা করা। সেই সাথে দাওয়াতী কাজ করা।
72. নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোর্স সমূহে দাওয়াতী প্রোগ্রাম বা উপকরণ সমূহ শামিল করা। যেমন- রান্না শিক্ষা, সন্তান লালন-পালন, সুখী দাম্পত্য জীবন, পারিবারিক অর্থনীতি, চাকরানীদের দীনী শিক্ষা দান, বিবাহের পূর্বে সংসার জীবনের প্রশিক্ষণ, শিশুরোগ সম্পর্কে জ্ঞান দান, পারিবারিক নিরাপত্তা ও ফাস্ট এইড প্রশিক্ষণ.. প্রভৃতি।
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের প্রত্যেককে আল্লাহর দ্বীনের প্রচারক হিসেবে কবুল করে নেন এবং দ্বীনের উপর মর্যাদা ও সাহসের সাথে পথ চলার তাওফীক দান করেন। আমীন।
ইসলাম প্রচারের ৭২টি পদ্ধতি
অনুবাদ: মুহা: আবদুল্লাহ্ আল্ কাফী ও আখতরুল আমান
সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী
দাঈ, জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সঊদী আরব।
পো: বক্স নং ১৫৮০, জুবাইল- ৩১৯৫১ সৌদী আরব।
জান্নাত প্রার্থনা করা ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, জাহান্নাম আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও”।
তিরমিযিঃ ২৫৭২, ইবনে মাজাহ ৪৩৪০, শায়খ আলবানি এই হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামি ৬২৭৫।
***উল্লেখ্য – সকাল সন্ধ্যায় ৭ বার “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার” পড়ার হাদীসটা জয়ীফ বা দুর্বল, শায়খ আলবানী সিলসিলা জয়ীফাহঃ ১৬২৪।
সুতরাং সেটা না পড়ে এই দুয়া পড়বেন, কারণ এটাতে জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া দুইটা দোয়া আছে আর এটা সহীহ। ঐটা থেকে এইদুয়াটা ভালো ও সহীহ।
অন্তর নরম করার কিছু আমল
অন্তর নরম করার কিছু আমলঃ
(১) একমনে কুরআন তেলাওয়াত করা ও অর্থসহ বুঝে পড়া।
(২) ক্বারীদের ক্বুরান তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা।
(৩) জামাতে নামায পড়ার জন্যে আগে আগে মসজিদে গিয়ে অপেক্ষা করা। এ সময় সুন্নত সালাত পড়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করা বা ক্বুরান তেলাওয়াত করা।
(৪) সৎ ও জ্ঞানী লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা।
(৫) কুরআন ও সুন্নাহর আলেমদের বই-পুস্তক পড়া ও ওয়াজ-লেকচার শোনা।(৬) বয়ষ্ক, দুর্বল ও অসুস্থ রোগীদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের তুলনায় আল্লাহ আমাকে অনেক ভালো রেখেছেন এই চিন্তা করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।(৭) দ্বীনি মজলিসে বসা।(৮) আল্লাহর নেয়ামতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ও তার জন্যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।(৯) আল্লাহর জন্যে ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যে ঘৃণা করা।(১০) পাপী ও নির্বোধ লোকদের বর্জন করা। অবশ্য দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে মেশা যাবে।(১১) বিদাত ব্যক্তি বা আলিমদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা এবং তাদের সাথে তর্ক না করা।(১২) কুরআনের সুরা বা আয়াত মুখস্থ করা।(১৩) সর্বদা আল্লাহকে স্বরণ রাখা।(১৪) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী ও হাদীসগুলো পড়া, সেইগুলো নিয়ে আলোচনা করা।(১৫) নির্জনে আল্লাহকে স্বরণ করা এবং নিজের পাপের জন্যে কান্নাকাটি করা।(১৬) অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা।(১৭) বাবা-মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করা। তাদের প্রয়োজন পূরণ করা।(১৮) মুসলমানদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ বর্জন করা এবং সবসময় তাদের প্রতি সদয় থাকা, তাদের জন্য কল্যানকামী হওয়া।(১৯) পাপ ও পাপের আসর বর্জন করা।(২০) গীবত থেকে দূরে থাকা।(২১) মৃত্যুকে স্বরণ করা এবং পরকালের আশায় জীবন কাটানো।(২২) দুনিয়া নিয়ে মত্ত না থাকা, পরকালকেই জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানানো।(২৩) মানুষকে খুশি করার চাইতে আল্লাহকে খুশি করাকে প্রাধান্য দেওয়া।(২৪) ক্ষুদার্ত মানুষকে খাদ্য দেওয়া।(২৫) দান করা।(২৬) অশ্লীল কথা না বলা, যারা বলে তাদেরকে বর্জন করা।(২৭) তাক্বদীরকে মেনে নেওয়া, এবং আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ থাকা।(২৮) আল্লাহর উপর ভরসা করা।(২৯) আল্লাহর উপর, পরকালের উপর বিশ্বাসকে দৃঢ় করা।(৩০) বিপদগ্রস্থ ও অসহায় মুসলিমদের জন্যে দুয়া করা।
(১) একমনে কুরআন তেলাওয়াত করা ও অর্থসহ বুঝে পড়া।
(২) ক্বারীদের ক্বুরান তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা।
(৩) জামাতে নামায পড়ার জন্যে আগে আগে মসজিদে গিয়ে অপেক্ষা করা। এ সময় সুন্নত সালাত পড়ে আল্লাহর কাছে দুয়া করা বা ক্বুরান তেলাওয়াত করা।
(৪) সৎ ও জ্ঞানী লোকদের সাহচর্য গ্রহণ করা।
(৫) কুরআন ও সুন্নাহর আলেমদের বই-পুস্তক পড়া ও ওয়াজ-লেকচার শোনা।(৬) বয়ষ্ক, দুর্বল ও অসুস্থ রোগীদের দেখতে যাওয়া এবং তাদের তুলনায় আল্লাহ আমাকে অনেক ভালো রেখেছেন এই চিন্তা করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।(৭) দ্বীনি মজলিসে বসা।(৮) আল্লাহর নেয়ামতগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ও তার জন্যে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।(৯) আল্লাহর জন্যে ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যে ঘৃণা করা।(১০) পাপী ও নির্বোধ লোকদের বর্জন করা। অবশ্য দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে মেশা যাবে।(১১) বিদাত ব্যক্তি বা আলিমদের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা এবং তাদের সাথে তর্ক না করা।(১২) কুরআনের সুরা বা আয়াত মুখস্থ করা।(১৩) সর্বদা আল্লাহকে স্বরণ রাখা।(১৪) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী ও হাদীসগুলো পড়া, সেইগুলো নিয়ে আলোচনা করা।(১৫) নির্জনে আল্লাহকে স্বরণ করা এবং নিজের পাপের জন্যে কান্নাকাটি করা।(১৬) অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা।(১৭) বাবা-মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করা। তাদের প্রয়োজন পূরণ করা।(১৮) মুসলমানদের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ বর্জন করা এবং সবসময় তাদের প্রতি সদয় থাকা, তাদের জন্য কল্যানকামী হওয়া।(১৯) পাপ ও পাপের আসর বর্জন করা।(২০) গীবত থেকে দূরে থাকা।(২১) মৃত্যুকে স্বরণ করা এবং পরকালের আশায় জীবন কাটানো।(২২) দুনিয়া নিয়ে মত্ত না থাকা, পরকালকেই জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বানানো।(২৩) মানুষকে খুশি করার চাইতে আল্লাহকে খুশি করাকে প্রাধান্য দেওয়া।(২৪) ক্ষুদার্ত মানুষকে খাদ্য দেওয়া।(২৫) দান করা।(২৬) অশ্লীল কথা না বলা, যারা বলে তাদেরকে বর্জন করা।(২৭) তাক্বদীরকে মেনে নেওয়া, এবং আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ থাকা।(২৮) আল্লাহর উপর ভরসা করা।(২৯) আল্লাহর উপর, পরকালের উপর বিশ্বাসকে দৃঢ় করা।(৩০) বিপদগ্রস্থ ও অসহায় মুসলিমদের জন্যে দুয়া করা।
হৃদয়সংলগ্ন ত্রিশটি আমল
হৃদয়সংলগ্ন ত্রিশটি আমল
১- আল্লাহ
তাআলার উপর ঈমান আনা
আল্লাহকে
বিশ্বাস করা এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থ শুধু আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব স্বীকার
করা নয়; বরং অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যে অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব
তা স্বীকার করা। তার সিফাত অর্থাৎ মহৎ গুণাবলি স্বীকার করা এবং তিনি যে এক, অদ্বিতীয়, সর্বশক্তিমান
ও দয়াময় এটাও স্বীকার করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নয় একথা
বিশ্বাস করা।
২- সবই
আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট এর উপর ঈমান রাখা
প্রত্যেক
মুসলমানকে এ বিষয়ে অকাট্য বিশ্বাস ও ঈমান রাখতে হবে যে, ভাল-মন্দ
ছোট বড় সমস্ত বিষয় ও বস্তুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তাআলা। সৃষ্টিকর্তা
হিসেবে একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ নেই।
৩- ফেরেশতা
সম্পর্কে ঈমান রাখা
ফেরেশতাগণ
নিস্পাপ, তারা আল্লাহর প্রিয় ও ফরমাবরদার বান্দা। কোন কাজেই তারা
বিন্দুমাত্র নাফরমানি করেনা এবং তাদের
আল্লাহপ্রদত্ব ক্ষমতাও অনেক বেশি। আল্লাহ তাআলা তাদের উপর অনেক জিম্মাদারি অর্পণ
করেছেন।
৪- আল্লাহর
কিতাব সম্বন্ধে ঈমান রাখা
পবিত্র
কুরআন সম্পর্কে এরূপ ঈমান রাখতে হবে যে, এ মহান কিতাবটি কোন মানুষের রচিত নয়; বরং
তা আদ্যোপান্ত আল্লাহ তাআলার কালাম বা বাণী। পবিত্র কুরআন অক্ষরে অক্ষরে অকাট্য সত্য।
এতদ্ভিন্ন পূর্ববর্তী নবীগণের প্রতি যেসব বড় বা ছোট কিতাব নাযিল হয়েছিল, সবই
অক্ষরে অক্ষরে সত্য ও অকাট্য ছিল। অবশ্য পরবর্তী কালে লোকেরা ঐসব কিতাব বিকৃত ও
পরিবর্তন করে ফেলেছে। কিন্তু কুরআন শরীফকে শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিতরূপে সংরক্ষণ
করার ভার স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই নিয়েছেন। সেই হিসেবে পবিত্র কুরআনকে কেউ বিকৃত
করতে পারবে না।
৫- পয়গাম্বরগণ
সম্বন্ধে ঈমান রাখা
বিশ্বাস
রাখতে হবে যে, নবী বা পয়গাম্বর বহু সংখ্যক ছিলেন। তারা সকলেই নিষ্পাপ ও
বেগুণাহ ছিলেন। তারা স্বীয় দায়িত্ব যথাযথ আদায় করে গিয়েছেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার আনীত শরীয়তই আমাদের পালনীয়।
৬- আখেরাত
সম্বদ্ধে ঈমান রাখা
আখেরাতের
উপর ঈমান রাখার অর্থ এই যে, কবরের সাওয়াল-জওয়াব ও ছাওয়াব-আযাব বিশ্বাস
করা, হাশরের
ময়দানে আদি হতে অন্ত পর্যন্ত পৃথিবীতে আগত সকল মানুষ একত্রিত হবে, নেকি
ও গুণাহ পরিমাপ করা হবে ইত্যাদির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। অর্থাৎ কিয়ামত
সম্বন্ধে যত কথা কুরআন ও হাদীসে এসেছে, সব বিশ্বাস করা জরুরী।
৭- তাকদীর
সম্বন্ধে ঈমান রাখা
তাকদীর
সম্বন্ধে কখনো তর্ক-বিতর্ক করবে না, বা মনে সংশয় সন্দেহ স্থান দিবেনা। দুনিয়াতে
যা কিছু হয়েছে, হচ্ছে বা হবে সবই মহান আল্লাহর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণাধীন ও
হুকুমের তাবেদার। আল্লাহ তাআলার ক্ষমতায়ই সবকিছু হয়। অবশ্য আল্লাহ
মানুষকে ইচ্ছা ও কাজের ইখতিয়ার দিয়েছেন। মানুষ নিজের ইখতিয়ার ও ইচ্ছায়
ভাল-মন্দ যা কিছু করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান দিবেন।
৮- বেহেশতের
উপর ঈমান রাখা
পবিত্র
কুরআনের অসংখ্য আয়াতে বেহেশতের কথা উল্লেখ আছে। আল্লাহ তাআলা নেককার মুমিন
বান্দাদেরকে বেহেশতে তাদের আমলের যথার্থ প্রতিদান ও পুরস্কার দিবেন। তারা ঈমান ও
নেক আমলের বদৌলতে চিরকাল বেহেশতের অফুরন্ত নেয়ামত ও শান্তি ভোগ করবেন। বেহেশতের
বাস্তবতা সম্পর্কে দৃঢ় ঈমান রাখতে হবে।
৯- দোযখের
উপর ঈমান রাখা
পবিত্র
কুরআনের বহু আয়াতে দোযখের উল্লেখ আছে। আল্লাহ তাআলা কাফির, ফাসেক
ও বদকারদেরকে জাহান্নাম তথা দোযখে তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত পরিনাম বা শাস্তি
দিবেন। কাফিররা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। আর গুণাহগার ঈমানদাররা জাহান্নামে
নির্দিষ্ট মেয়াদের শাস্তি ভোগের পর ঈমানের বদৌলতে জান্নাতে যাবে। দোযখের
বাস্তবাতার উপর ঈমান রাখতে হবে।
১০- অন্তরে আল্লাহর মুহাব্বত রাখা
অন্তরে
মহান আল্লাহর প্রতি সর্বদা মহব্বত বদ্ধমূল রাখতে হবে। এমনকি দুনিয়ার সবকিছু থেকে
আল্লাহ তাআলার মহব্বত বেশি হতে হবে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন মজিদে ইরশাদ করেন -
والذين آمنوا
أشد حباً لله
যারা
মুমিন আল্লাহর প্রতি তাদের মুহাব্বত প্রকট।
১১- কারো সাথে মহব্বত-ভালোবাসা ও
শত্রুতা পোষণ কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই রাখা
রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-
যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, সে
ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে।
(ক)
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বাধিক
মহব্বত করবে।
(খ)
কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে মহব্বত করতে হলে আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করবে। অন্য কোন
উদ্দেশ্যে করবেনা।
(গ)
কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে মন্দ জানতে হলে শুধুমাত্র আল্লাহর ওয়াস্তেই মন্দ জানবে।
(মুসনাদে আহমাদ)
১২- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মহব্বত রাখা, তার সুন্নতকে ভালোবাসা
রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মহব্বত রাখা ঈমানের বিশেষ অংশ। এর অর্থ
শুধু মহব্বতের দাবি করা বা নাত-গজল পড়া নয়, বরং এর সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্তব্য পালন করতে
হবে। যথা:
১.
অন্তর দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভক্তি করতে হবে।
২.
বাহ্যিকভাবে তার আদব বা তাজীম রক্ষা করতে হবে।
৩.
রাসূলের উপর দুরূদ ও সালাম পড়তে হবে।
৪.
রাসূলের সুন্নত তরীকার অনুসরণ করতে হবে।
১৩- ইখলাসের সাথে আমল করা
যে
কোন নেক কাজ খালিসভাবে আল্লাহকে রাজি-খুশি করার নিয়্যতে করা ঈমানের দাবি। নিয়্যত
খাটি হবে, মুনাফেকি ও রিয়া থাকতে পারবে না। মুমিনের সকল কাজ একমাত্র
আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যই হতে হবে।
১৪- গুণাহ থেকে তওবা করা
তওবা
শুধু গদবাধা কতগুলো শব্দ উচ্চারণের নাম নয়; বরং গুণাহর কারণে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চেয়ে তা
থেকে সম্পূর্ণরূপে পরহেজ করা জরুরী। এক বুযুর্গ আরবীতে অতি সংক্ষেপে তওবার
ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন-
التوبة تحرق
الحشا على الخطأ
গুণাহের
কারণে মনের ভিতর অনুতাপের আগুন জলাকেই তওবা বলে।
হযরত
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন : الندامة توبة - অনুতাপের নামই তওবা।
১৫- অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখা
হযরত
মুআয রা. থেকে বর্ণিত: ঈমান ওয়ালার দিল কখনও আল্লাহর ভয় ছাড়া থাকেনা, সব
সময়ই তা আল্লাহর ভয়ে কম্পমান থাকে। কোন সময়ই সে আল্লাহ থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে
থাকতে পারেনা।
১৬- আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা করা
কুরআন
শরীফে আছে :
إنه لا ييأس من
روح الله إلا القوم الكافرون
যারা
কাফের তারাই শুধু আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়।
আল্লাহর রহমতের আশা রাখা
ঈমানের একটি বিশেষ অংশ।
১৭- লজ্জাশীল হওয়া
রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন:
الحياء شعبة من
الإيمان
লজ্জাশীলতা
ঈমানের একটি বড় শাখা। (বুখারী, মুসলিম)
১৮- শোকরগুযার হওয়া
শোকর
দুই প্রকার।
(ক)
আল্লাহর শোকর আদায় করা যিনি প্রকৃত দাতা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
واشكروا لي ولا
تكفرون
তোমরা
আমার শোকর আদায় কর, কুফরি করোনা।
(খ) মানুষের শোকর আদায় করা। অর্থাৎ যাদের
হাতের মাধ্যম হয়ে আল্লাহ তাআলার নেয়ামত পাওয়া যায়, তাদের
শোকর আদায় করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেন,
من لم يشكر
الناس لم يشكر الله
যে
ব্যক্তি মানুষের শোকর আদায় করলনা সে আল্লাহ তাআলার শোকর করলনা।
১৯- অঙ্গীকার রক্ষা করা
আল্লাহ
তাআলা বলেন,
يأيها الذين
آمنوا أوفوا بالعقود
হে
ঈমানদারগণ, তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর। (অর্থাৎ কাউকে কোন কথা দিয়ে
থাকলে তা রক্ষা কর। )
২০- ধৈর্য ধারণ করা
আল্লাহ
তাআলা বলেছেন :
إن الله من
الصابرين
যারা
সবর করে আল্লাহ তাআলা তাদের সঙ্গে আছেন।
২১- নম্রতা অবলম্বন করা
নম্রতা
অর্থ নিজেকে সকলের তুলনায় অন্তর থেকে ছোট মনে করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেন:
من تواضع لله رفعه الله
যে
ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নম্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা বাড়িয়ে
দেন। (বাইহাকী)
২২- স্নেহশীল হওয়া
আবু
হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম বলেন:
যে ব্যক্তি দুর্ভাগা তার
থেকেই দয়া ছিনিয়ে নেয়া হয়।
২৩- তাকদীরে সন্তুষ্ট থাকা
তাকদীরে
সন্তুষ্ট থাকাকে رضى بالقضاء বলা হয়। অর্থাৎ আল্লাহর সকল ফয়সালা
সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা। তবে আল্লাহর হুকুমে বিপদ আপদ বা দুঃখ-কষ্ট আসলে
অসন্তুষ্ট না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, মনে কষ্ট লাগতে পারবে না, পেরেশানও
হবেনা। কষ্টের বিষয়ে কষ্ট লাগাটাইতো স্বাভাবিক। তবে আসল কথা হচ্ছে কষ্ট লাগলেও বুদ্ধির
দ্বারা ও জ্ঞানের দ্বারা তার মধ্যে কল্যাণ আছে এবং এটা আল্লাহ তাআলারই হুকুমে
হয়েছে মনে করে সেটাকে পছন্দ করা।
২৪- তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা
আল্লাহ
তাআলা বলেন:
وعلى الله
فليتوكل المؤمنون
আর
আল্লাহ তাআলার উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিৎ।
২৫- অহংকার না করা
অহংকার
না করা অর্থাৎ অন্যের তুলনায় নিজেকে নিজে ভাল এবং বড় মনে না করা ঈমানের অঙ্গ।
তবরানী নামক হাদীসের কিতাবে একটি হাদীস বর্ণিত আছে,
তিনটি জিনিষ মানুষের জন্য
সর্বনাশকারী :
(ক)
লোভ
(খ)
নফসানি খাহেশ ও
(গ)
অহংকার।
২৬- চোগলখুরী ও মনোমালিন্য তরক করা
রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
চোগলখুরী ও কিনা মানুষকে
জাহান্নামে নিয়ে যায়। অতএব, কোন মুমিনের অন্তরেই এ গর্হিত খাসলত না থাকা
উচিৎ। (তবরানী)
২৭- হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা
রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন :
إياكم والحسد،
فإن الحسد يأكل الحسنات كما تأكل النار الحطب
খবরদার!
তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাক, কেননা অগ্নি যেমন কাঠকে ভস্ম করে ফেলে তদ্রূপ
হিংসাও মানুষের নেকিকে ভস্ম করে ফেলে। । (তবরানী)
২৮- ক্রোধ দমন করা
আল্লাহ
তাআলা কুরআনে কারীমে ক্রোধ দমনকারীর প্রশংসা করেছেন। অনর্থক রাগ করা মারাত্মক
গুণাহ। রাগ-ক্রোধ দমনে হাদীসে তাকীদ এসেছে। তবে ইসলামের উপর কোন আঘাত আসলে সেখানে
ক্রোধ ও অসন্তুষ্টি প্রদর্শনই ঈমানের দাবি।
২৯- অন্যের অনিষ্ট সাধন ও প্রতারণা
না করা
রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি
করে অর্থাৎ পরের মন্দ চায়, অপরকে ঠকায়, ধোকা দেয় তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
(মুসলিম)
৩০- দুনিয়ার প্রতি অত্যধিক
মায়া-মহব্বত ত্যাগ করা
নবী
করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
যে ব্যক্তি দুনিয়াকে
ভালবাসবে, তার আখেরাতের লোকসান হবে এবং যে আখেরাতকে ভালবাসবে তার
দুনিয়ার কিছু ক্ষতি হবে। হে আমার উম্মত! তোমাদের মঙ্গলের জন্যই বলছি, তোমরা
অস্থায়ী ও ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে ভালবেসে চিরস্থায়ী আখেরাতকে নষ্ট করে দিওনা।
তোমরা সকলে চিরস্থায়ী পরকালকেই শক্তভাবে ধর এবং বেশি করে ভালবাস। (অর্থাৎ
দুনিয়ার মহব্বত পরিত্যাগ করে আখেরাতের প্রস্তুতিতে আমলের প্রতি যথাযথ ধাবিত হও।
(আহমাদ, বাইহাকী)
আল্লাহ
তাআলা আমাদের সকলকে উল্লেখিত সিফাতগুলো অর্জন করার তাওফীক দান করুন।
সমাপ্ত
চৌধুরী
আবুল কালাম আজাদ
সূত্র
: ইসলামহাউজ
২- সবই আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট এর উপর ঈমান রাখা
৩- ফেরেশতা সম্পর্কে ঈমান রাখা
৫- পয়গাম্বরগণ সম্বন্ধে ঈমান রাখা
৬- আখেরাত সম্বদ্ধে ঈমান রাখা
৭- তাকদীর সম্বন্ধে ঈমান রাখা
৮- বেহেশতের উপর ঈমান রাখা
৯- দোযখের উপর ঈমান রাখা
১০- অন্তরে আল্লাহর মুহাব্বত রাখা
১১- কারো সাথে মহব্বত-ভালোবাসা ও শত্রুতা পোষণ কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই রাখা
যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, সে ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে।
১২- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মহব্বত রাখা, তার সুন্নতকে ভালোবাসা
১৩- ইখলাসের সাথে আমল করা
১৪- গুণাহ থেকে তওবা করা
১৬- আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা করা
আল্লাহর রহমতের আশা রাখা ঈমানের একটি বিশেষ অংশ।
১৭- লজ্জাশীল হওয়া
১৮- শোকরগুযার হওয়া
(ক) আল্লাহর শোকর আদায় করা যিনি প্রকৃত দাতা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
১৯- অঙ্গীকার রক্ষা করা
২০- ধৈর্য ধারণ করা
২১- নম্রতা অবলম্বন করা
২২- স্নেহশীল হওয়া
যে ব্যক্তি দুর্ভাগা তার থেকেই দয়া ছিনিয়ে নেয়া হয়।
২৩- তাকদীরে সন্তুষ্ট থাকা
২৪- তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা
২৫- অহংকার না করা
তিনটি জিনিষ মানুষের জন্য সর্বনাশকারী :
(খ) নফসানি খাহেশ ও
(গ) অহংকার।
২৬- চোগলখুরী ও মনোমালিন্য তরক করা
চোগলখুরী ও কিনা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। অতএব, কোন মুমিনের অন্তরেই এ গর্হিত খাসলত না থাকা উচিৎ। (তবরানী)
২৭- হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা
২৮- ক্রোধ দমন করা
২৯- অন্যের অনিষ্ট সাধন ও প্রতারণা না করা
যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে অর্থাৎ পরের মন্দ চায়, অপরকে ঠকায়, ধোকা দেয় তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। (মুসলিম)
৩০- দুনিয়ার প্রতি অত্যধিক মায়া-মহব্বত ত্যাগ করা
যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালবাসবে, তার আখেরাতের লোকসান হবে এবং যে আখেরাতকে ভালবাসবে তার দুনিয়ার কিছু ক্ষতি হবে। হে আমার উম্মত! তোমাদের মঙ্গলের জন্যই বলছি, তোমরা অস্থায়ী ও ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে ভালবেসে চিরস্থায়ী আখেরাতকে নষ্ট করে দিওনা। তোমরা সকলে চিরস্থায়ী পরকালকেই শক্তভাবে ধর এবং বেশি করে ভালবাস। (অর্থাৎ দুনিয়ার মহব্বত পরিত্যাগ করে আখেরাতের প্রস্তুতিতে আমলের প্রতি যথাযথ ধাবিত হও। (আহমাদ, বাইহাকী)
সমাপ্ত
